আরেক বাংলাদেশি আক্রান্ত সিঙ্গাপুরে

নভেল করোনাভাইরাসে সিঙ্গাপুরে ৩৯ বছর বয়সী আরো এক বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। আক্রান্ত দুজনেই একই জায়গায় কাজ করতেন।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দ্বিতীয় বাংলাদেশি সেখানকার বীরাস্বামী এলাকায় থাকেন এবং সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটসে কাজ করতেন। আক্রান্ত প্রথমজনও কাজ করতেন সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটসে।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভয়ংকর রূপ নেওয়া প্রাণঘাতী নতুন এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত এক দিনে সবচেয়ে বেশি ১০৮ জন মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে; এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৬ জনে। চীনের বাইরে একজন করে মারা গেছে ফিলিপাইন ও হংকংয়ে। চীনসহ ২৮ দেশে আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ১৪৩ জনে; যার মধ্যে শুধু চীনেই আক্রান্ত ৪২ হাজার ৬৬৭ জন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে বেশ কয়েক শ ব্যক্তিকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে চীন। পদচ্যুতদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়েছেন। তাঁরা হলেন হুবেই স্বাস্থ্য কমিশনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ঝ্যাং জিন ও কমিশনের পরিচালক লিউ ইয়ানজি। ‘অনুদান পরিচালনায় অবহেলা’র দায়ে হুবেই রেড ক্রসের উপপরিচালককেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনেককে সতর্ক করা হয়েছে এবং কারো কারো বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অনেকেই পদ হারানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন।

চীন থেকে ছড়ানো নতুন এই ভাইরাস বিশ্বের বাদবাকি দেশগুলোর জন্যও গুরুতর হুমকির বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সংস্থার প্রধান টেডরস আধানম গেব্রিয়াসুস গতকাল বলেছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের নমুনা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করাসহ এর টিকা ও ওষুধ তৈরির জন্য গবেষণা জোরদার করতে হবে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ১০৮ জন মারা গেছে, যার মধ্যে ১০৩ জনই হুবেই প্রদেশের। এদিন দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৬ জনে। তবে আগের দিনের তুলনায় চীনজুড়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আগের দিন তিন হাজার ৬২ জন আক্রান্ত হলেও সোমবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৪৭৮ জন। হুবেইয়েও আগের দিনের তুলনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। আগের দিন দুই হাজার ৬১৮ জন আক্রান্ত হলেও সোমবার নতুন করে দুই হাজার ৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।

চীনের বাইরেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) বলছে, ২৮টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান জাপানে ১৬৩ জন, তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থান হংকংয়ে ৪৯ জন এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে ৪৭ জন আক্রান্ত রয়েছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনে শি : চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং সোমবার বেইজিংয়ের একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাঝে তাঁর জনসমক্ষে আসা ও হাসপাতাল পরিদর্শনের ঘটনাকে বিরল হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আরো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন শি চিনপিং।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, কমিউনিটিতে সব প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং সব কমিউনিটিকে মহামারির বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে রূপান্তর করতে হবে। জনসাধারণকে সতর্ক করে দিয়ে শি আরো বলেন, ‘বিশেষ এ সময়ে আমরা করমর্দন করব না, তবে এ মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা আছে আমাদের।’ চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, উহান শহরের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে এলে হুবেই প্রদেশের অবস্থাও নিয়ন্ত্রণে আসবে, সারা দেশের অবস্থা ভালো হবে। বর্তমানে হুবেই ও উহানের অবস্থা গুরুতর। আরো কঠোর ও নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে মহামারি দমন করা হবে।

‘এপ্রিলের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে’ : এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউসে বলেছেন, ‘আশা করি, এপ্রিলে গরম শুরু হলে করোনাভাইরাস দূর হয়ে যাবে। গরমকালে সাধারণত এ ধরনের ভাইরাস টিকে থাকতে পারে না।’

ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। তাঁকে খুবই আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিআরআই।

বৈশাখী নিউজ/ জেপা

loading...