যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড শনাক্তের দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনার সঙ্গে কোনভাবেই পেরে উঠছে না কেউই। যার ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত একদিনে সর্বোচ্চ না হলেও রেকর্ড শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে। তবে এদিন সবচেয়ে কম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্পের দেশে এখন পর্যন্ত করোনার শিকার ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার ভুক্তভোগীর।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের তালিকায় যোগ হয়েছে ৪০ হাজার ৫৪০ জন। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণ গেছে ২৮৫ জনের। এর আগে সবশেষ গত ১৪ জুন সর্বনিম্ন ৩২৬ জনের মৃ্ত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে দেশটির ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৭ জনের মৃত্যু হলো করোনায়। আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সংখ্যা ১১ লাখ ছুঁই ছুঁই।

এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই আক্রান্ত ৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৭ জন। যেখানে ৩১ হাজার ৪৮৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে, বর্তমানে সেখানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি।

সংক্রমণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শহর ক্যালিফোর্নিয়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৫ জনের।

নিউ জার্সিতে করোনার শিকার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৪ জন মানুষ। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ১৫ হাজার ১১৮ জনের।

সংক্রমণ ভয়ানক রূপে বাড়ছে টেক্সাসে। এ শহরে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২ হাজার ৪১৬ জনের।

ইলিনয়সে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৬ জন মানুষের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্লোরিডায় আক্রান্ত ১ লাখ সাড়ে ৪১ হাজার পেরিয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে ৩ হাজার ৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

ম্যাসাসুয়েটসসে সংক্রমণ ১ লাখ সাড়ে ৮ হাজার পেরিয়েছে। যেখানে ৮ হাজার ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

পেনসিলভেনিয়ায় প্রায় ৯০ হাজার মানুষ করোনার শিকার। এর মধ্যে না ফেরার দেশে সেখানকার ৬ হাজার ৬৬৩ জন।

এদিকে, দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। দেশটির দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, ‘প্রকৃত তথ্য হলো প্রকাশিত সংখ্যার অন্তত ১০ গুণ বেশি মানুষ করোনার ভয়াবহতার শিকার।’

আর দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফৌসি জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আগামী কয়েকদিনে মহামারি রূপ নেয়া করোনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’ যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কিছু অঙ্গরাজ্যে করোনা ভাইরাসের বিরক্তিকর উত্থান দেখছে জাতি। তবে সামনের দিনগুলোতে এ সংক্রমণ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।’

অবশ্য, বাস্তব অবস্থাও তাই বলছে। এতে করে দেশটি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে নতুন করে সংক্রমণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণ জনগোষ্ঠী, যাদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

বৈশাখী নিউজজেপা

loading...