গুরুদাসপুরে ওসিকে বদলী করা প্রসঙ্গে আ’লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

ইমাম হাছাইন পিন্টু নাটোর প্রতিনিধি: “আমি জেল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন পাঠানোর পর গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিনকে বদলী করা হয়েছে।” গত মঙ্গলবার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আওয়ামীলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলামের এমন বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে একটি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১৬দিন কারাভোগের জামিনে মুক্ত হয়ে এসে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সভা চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন যা মুহুত্বেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এসময় ওসি আব্দুল মতিনের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। আজকে আওয়ামী লীগের স্ট্যান্ডিং সেক্রেটারী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজতে যাবে কেন? আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জেলে বসে আবেদন পাঠিয়েছিলাম।
বদলী হওয়া ওসি আব্দুল মতিন একজন জামায়াত-বিএনপির মূখপাত্র ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানকার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তাকে বুঝে উঠতে না পেরে অনেকে তার সাথে বিভিন্ন কাজে সম্পক্ত হয়েছিল। আমিও তাদের মত ভুল করে তার সাথে নানা কাজে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। যখন বুঝতে পারি এই ওসি আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে, তখন থেকে তার সাথে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করি। এই জন্য ওসি আমাকে তার ব্যক্তিগত শত্রæর তালিকায় আমার নাম দিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা করার প্ররোচনা দিয়েছে। ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে তিনি সংগঠন নিয়েও বক্তব্য রাখেন।
নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান হিরা জানান, নজরুল ইসলামের দেয়া বক্তব্য নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানান। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার বিষয়টি উল্ল্যেখ করেন। তিনি বিষয়টি উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে অবগত করেছেন।
এবিষয়ে জানতে আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭১৮৬৭৬৫৩২) একাধিকবার কল দিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গুরুদাসপুর থানার বিদায়ী ওসি আবদুল মতিন জানান, তার বদলির বিষয়টি রুটিন অনুযায়ী হয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় তাকে দলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অর্থ আত্মাসাত মামলায় সে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তার ভাইরাল হওয়া বক্তব্য সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেননা। যদি তিনি এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি দুঃখজনক। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, নাটোর জেলা পুলিশ সুপারের অফিস আদেশে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিনকে ওয়ার হেডকোয়ার্টার্স নাটোর এ বদলি করা হয়। অন্যদিকে সম্প্রতি অব্যাহতি প্রাপ্ত আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলামের নামে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে ৫টি অর্থ আতœসাৎ মামলা ও একটি নিয়োগ জালিয়াতি মামলা দায়ের করা হয়। গত ২ এপ্রিল আদালতে তিনি একটি আতœসাৎ মামলার হাজিরা দিতে গেলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। পরে ১৬ দিন পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।








