নওগাঁয় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের রুলজারী

আপডেট: November 19, 2023 |
inbound907944032846881750
print news

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর ও মান্দা উপজেলার আত্রাই নদী হতে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করছেন।

প্রভাবশালী বালু ইজারাদার আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন যাতে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করতে না পারে, সে জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এব্যাপারে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দীন গত ২৫ অক্টোবর অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য ইজারাদারসহ ১১ জনকে বিবাদী করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে ইউপি সদস্য নাসিরের রিট পিটিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ জারি করেন।

এই মামলা দায়েরর পর গত ৩০ অক্টোবর অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন।

জানাগেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর ভাটি অংশ ও মান্দা উপজেলার উজান অংশ থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন প্রভাবশালী ইজারাদার আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন।

এমন ঘটনার পেক্ষিতে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য জনস্বার্থে ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন ইজারাদারের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

এর পেক্ষিতে মহামান্য আদালত রুলজারি পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু মহামান্য হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের পরও ইজারাদার বহাল-তবিয়তে মাটি ও বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরব ভুমিকায় এমন অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ।

মহামান্য উচ্চ আদালত হতে রুল জারী ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী ইজারাদার মোয়াজ্জেম হোসেন জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করে অবাধে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও তিনি ইজারার সমুদয় টাকা পরিশোধ না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নদী দখল বুঝিয়ে পাওয়ার আগেই কার্যাদেশ অমান্য করে দখল ও শোষণ করে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।

কিন্তু কিভাবে তিনি অনিয়ম কে নিয়মে পরিণত করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রশ্নই ঘোরপাক খাচ্ছেন জনমনে।

স্থানীয়রা অচিরেই অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক গোলাম মওলার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা পাইনি।

নির্দেশনা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি ইজারার টাকা পরিশোধ না করে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাকে নোটিশ করা হয়।

পরে তিনি ইজারার সমুদয় টাকা পরিশোধ করে নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে বালু উত্তোলন করছেন। যদি অনিয়ম করে তাহলে অভিযোগ পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share Now