ফরিদপুর-২: কারচুপির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর দুই আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া গত ৭ জনুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই ও প্রহসন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের ক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তন এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ শাহজাহানের সভাপতিত্বে এ সময় লিখিত বক্তব্য পেশ করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া।
তিনি তার লিখিত বক্তব্য বলেন ০৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকে জোর করে হারানো হয়েছে। তার নির্বাচনি এলাকার মোট ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের ভোট জোর করে নৌকা প্রতীকে টেবিলের উপরে নেয়া হয়।
কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট প্রকাশ্য নৌকার সন্ত্রাসী সমর্থকরা ভোট কেটে নেয়, তার মধ্যে বাবুর কাই চাইল কেন্দ্র, বালিয়া গট্টি কেন্দ্র, জয় ঝাপ কেন্দ্র, বড় ঝাড় দিয়া কেন্দ্র, সুতার কান্দা কেন্দ্র, পুরা দিয়া কেন্দ্র কৃষ্ণডাঙ্গা কেন্দ্রসহ আরো কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট নৌকা প্রতীকে জোর করে নিয়ে নেয়।
তিনি দাবি করেন অধিকাংশ প্রিজাইডিং অফিসার ২০০-৩০০ ভোট কেটে নৌকার সিল মেরে ব্যালট আগেই রেখে দিয়েছিলেন এবং আমার ঈগলের ভোটের উপর নৌকা লিখে বান্ডিল করেছেন। আমার চোখের সামনে ভোট কেটে নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে নৌকায় ছিল মেরেছে অনবরত জাল ভোট দিয়েছে।
আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে বার বার বলা সত্ত্বেও কোন পদক্ষেপ নেন নাই। তারা বলেন ভিতরে কি হলো আমাদের সেটা দেখার বিষয় না। প্রিজাইডিং অফিসারকে কমপ্লেইন করতে হবে।
আমি বললাম, প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই জড়িত তার পরে ও কোন পদক্ষেপ নেন নাই আমি রিটানিং কর্মকর্তাকে বারবার ভোট বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
সহকারি রিটার্নিং অফিসারকে দিয়েছি কোন কাজ হয় নাই ভোট গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন।
জামাল হোসেন মিয়া বলেন, প্রায় ২০টি কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়েছেন।
প্রহসনের নির্বাচন, কারচুপির নির্বাচন ও ব্যালট ছিনতাইয়ের নির্বাচন নগরকান্দা সালথা বাসী প্রত্যাখ্যান করেছেন, এই ফলাফল আমরা মানিনা। আমার ঈগলের অনেক ভোট নষ্ট দেখানো হয়েছে।
আমি ভোটে জিতেছি আমাকে জোর পূর্বক ১৯০০ ভোটে পরাজয় দেখানো হয়েছে।
নির্বাচনের একদিন যেতে না যেতে নগরকান্দা সালথা আমার সমর্থক দের প্রায় ২০০ বাড়ি ঘর দোকান পাট ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে, আমার নেতাকর্মীর উপরে নির্মম ও নির্যাতন হামলা চালানো হচ্ছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই, এবং সেই সাথে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানাই এবং যে সকল কেন্দ্রে অনিয়ম ভোট চুরি ব্যালট ছিনতাই জাল ভোট প্রদান প্রকাশ্যে নৌকা প্রতিকে ছিল মারা, মৃত ব্যাক্তি ও প্রবাসিদের ভোট গণনা করা হয়েছে। সেই সব কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পূর্ণ নির্বাচন দেয়ার জন্য জোর দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সাবির চৌধুরী, নগরকান্দা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সালথারসাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ অহিদুজ্জামান, যদূনন্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মিঠু, মুস্তাক আহমেদ, লিয়াকত হোসেন হোসেন প্রমূখ।
এ সময় ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন
এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, “এব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আর ফরিদপুরবাসী দেখেছেন নির্বাচন কেমন হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে চাইনা।








