ফরিদপুরে স্টপেজের দাবিতে এবার কাফনের কাপড় জড়িয়ে রেললাইনে বিক্ষোভ

আপডেট: May 11, 2024 |
inbound981274895745745932
print news

ফরিদপুর প্রতিনিধি: রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চন্দনা কমিউটার ট্রেনের ফরিদপুর রেলস্টেশনে স্টপেজ দাবিতে পুনরায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা করেছে এলাকাবাসী।

আন্দোলনকারীরা শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে রেললাইনে শুয়ে যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা চন্দনা কমিউটার ট্রেনটির গতিরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

শনিবার (১১ মে) ভোরে ফরিদপুর রেলস্টেশনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি করা হয়।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রায় ৪০ মিনিট ট্রেনটি ফরিদপুর স্টেশনে অবস্থান করে। পরে ট্রেনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবস্থানকারীরা সরে গেলে ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ট্রেনটি।

এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করে। এই সময়ের মধ্যে ট্রেনের স্টপেজ না দেওয়া হলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

এর আগে একই দাবিতে গত ৫ মে ট্রেন চালুর দিনও স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন প্রাচীন এ জেলা শহরের উপর দিয়ে ট্রেন যাবে অথচ ট্রেনের স্টপেজ থাকবে না এটা হতে পারে না।

ঢাকার সাথে যোগাযোগ সহজ করতে এবং বাসের উপর নির্ভরতা কমাতে অবশ্যই ফরিদপুরে স্টপেজ দিতে হবে হবে জানায় তারা। ফরিদপুরে স্টপেজ থাকলে যাত্রীরা সুলভে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে।

চাকরিজীবীরা এ বিশেষ সুবিধা থেকে যাতায়াতে বঞ্চিত হয়েছে। এ সময় তারা ফরিদপুরে স্টপেজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনতিবিলম্বে রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

গত ৫ মে ট্রেন চালুর দিনে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আজ আবারো কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্টপেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা না হলে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করা হবে জানায় তারা।

রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে রাজবাড়ী-ভাঙ্গা-ঢাকা পথে বাণিজ্যিকভাবে নতুন করে এক জোড়া কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে ৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম এমপি।

তবে ফরিদপুর রেলস্টেশনে কোন যাত্রাবিরতি না থাকায় এ নিয়ে ফরিদপুরের রেলযাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে চন্দনা কমিউটার ট্রেনের পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুতই স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূলত একটি ট্রেন দুটি ইঞ্জিন দিয়ে পরিচালিত হবে দুটি রুটে দুটি নামে। রাজবাড়ী থেকে ট্রেনটি এসে ভাঙ্গায় যাত্রাবিরতি নেবে।

সেখানে ইঞ্জিন বদলে আবার ঢাকা যাবে। এর মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ১২১ ও ১২৪ নম্বর ট্রেনটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘ভাঙ্গা এক্সপ্রেস’।

আর ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে ১২২ ও ১২৩ নম্বর ট্রেনের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘চন্দনা এক্সপ্রেস’।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ভাঙ্গা স্টেশন থেকে ছেড়ে শিবচর স্টেশন, পদ্মা স্টেশন পদ্মা সেতু ও মাওয়া স্টেশন হয়ে ৯টার মধ্যে ঢাকার কমলাপুর পৌঁছাবে।

এর আগে ট্রেনটিই রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসবে ভোর ৫টায়। সন্ধ্যা ৬টায় ট্রেনটি কমলাপুর থেকে আবারও একই রুটে ফিরে আসবে। কর্মজীবী যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা এই ট্রেনে চড়ে স্বল্প খরচে বাড়ি থেকে ঢাকা যাতায়াত করতে পারবেন।

এই রেলপথ দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস, সুন্দরবন, রাজশাহী ও নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস চলাচল করে। চারটি ট্রেনেরই ফরিদপুরে যাত্রাবিরতি রয়েছে।

কিন্তু চন্দনা কমিউটার ট্রেনের যাত্রাবিরতি ফরিদপুর রেলস্টেশনে না থাকায় এই বিক্ষোভ করে ফরিদপুরের সর্বস্তরের জনগণ।

Share Now