ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় গাজায় নিহত আরও ৭৫

আপডেট: September 5, 2025 |
inbound5515888441937376604
print news

ইসরায়েলের লাগাতার বিমান ও স্থল হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। শুধু বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত একদিনেই অন্তত ৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এর মধ্যে কেবল গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৪৪ জন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, টানা বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত হচ্ছে গাজা সিটির পাড়া-মহল্লা। আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন, কিন্তু উপত্যকার কোথাও নেই নিরাপদ আশ্রয়। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) গাজা সিটিকে আখ্যা দিয়েছে “আতঙ্কের নগরী” হিসেবে।

তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি তাঁবুতে হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখা একটি শিশু স্যান্ডেল। বেঁচে যাওয়া ফিলিস্তিনি নারী ইসরা আল-বাসুস জানান, তাঁবুতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ বোমা পড়লে তাঁর শরীরে টুকরো লাগে এবং সন্তানরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করে।

গাজা সিটির জেইতুন, সাবরা, তুফাহ, নাসর ও শুজাইয়া এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। তুফাহ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল। শুজাইয়ায় আবাসিক ভবনে হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন এবং জেইতুনে একটি পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদের ভাষ্য, মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালাচ্ছেন, কিন্তু যেখানে যাচ্ছেন সেখানেও ইসরায়েলি বিমান ও ট্যাংকের গোলাবর্ষণ তাদের পিছু ছাড়ছে না। শেখ রাদওয়ান এলাকায় আশ্রিতদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে মৃত ও আহতের ঢল নেমেছে। আল-শিফা হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় লাশ রাখা হচ্ছে মেঝেতে। নিহত এক শিশুর মা বিলাপ করে বলছিলেন, “আমাকে ফেলে কোথায় গেলে, বাবা? কেন?”

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন গাজার ভেতরে। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার যোগাযোগ কর্মকর্তা টেস ইনগ্রাম সতর্ক করেছেন, এটি এখন “ভয়, পালানো ও জানাজায় ভরা নগরী”।

ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, তারা গাজা সিটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং আরও অভিযান চালাবে। আল জাজিরার সানাদ ফ্যাক্ট-চেকিং এজেন্সি স্যাটেলাইট চিত্রে অন্তত ৫২টি সামরিক যান জেইতুন এলাকায় মোতায়েন দেখতে পেয়েছে।

এদিকে উত্তর গাজা থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলেও। খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া গর্ভবতী নারী শুরুক আবু ঈদ জানান, “এখানে নেই কোনও গোপনীয়তা, নেই শান্তি।”

একই দিনে নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলায় নিহত হয়েছেন সাতজন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাফাহতে ত্রাণ নেওয়ার জন্য জড়ো হওয়া মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এতে আরও সাতজন প্রাণ হারান।

ক্রমাগত হামলায় বিধ্বস্ত হচ্ছে গাজার নগর-গ্রাম, আর ফিলিস্তিনিরা যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই মৃত্যু ও ধ্বংস তাদের পিছু নিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Share Now