ভাইরাল শ্যালিকাকে বিয়ে করে এবার তালাকের ঘোষণা টিকটকার মাসুদের

আপডেট: October 28, 2026 |
Untitled 11
print news

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানা এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে শ্যালিকাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করেন মাসুদ। এ সময় হাত জোড় করে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

লাইভে মাসুদ রানা বলেন, প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে তার ছোট বোনকে বিয়ে করাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ভুল। আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পরে শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়তো এ নিয়ে সামাজিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হতো না বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন।

অজ্ঞতার কারণে এমন ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি বুঝতাম এমন সম্পর্ক সমাজের চোখে অপরাধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, তবে আমরা কখনোই এ ধরনের ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করতাম না। বুঝে-শুনে কেউ আগুনে হাত দেয় না।

মাসুদ জানান, এখন থেকে সমাজ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জীবন পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার অনুরোধ জানান। লাইভে শ্যালিকাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে থাকতেন মাসুদ। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সেখানে তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। পরদিন রবিবার (২৫ অক্টোবর) তিনি প্রথম স্ত্রীর ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মাসুদ দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতা নিয়েই তিনি এ বিয়ে করেছেন। তার দাবি, পূর্ণিমার অন্যত্র বিয়ে হলে আগে ধারণ করা কিছু টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে তিনি হয়রানির শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই এই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

পরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে অনলাইনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এ ঘটনার জেরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখে শ্যালিকাকে বিয়ে করার প্রতিবাদে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মেখে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এবং তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার ছোট বোনকে (শ্যালিকাকে) বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম (নিষিদ্ধ) এবং এই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ বা শুদ্ধ হয় না।
মহান আল্লাহ একত্রে দুই বোনকে (বৈবাহিক সম্পর্ক রাখাকে একজন পুরুষের জন্য হারাম করেছেন (আন-নিসা, ৪/২৩)।

Share Now