আফগানিস্তানে বাড়ছে পোলিও রোগীর সংখ্যা

আফগানিস্তানে হঠাৎ করেই বাড়ছে পোলিও রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির দিকে বেশি নজর দেয়ায় অনেকটা অগোচরেই বাড়ছে রোগটির প্রকোপ। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান তাদের।
তালেবানসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় পোলিও টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি দেশটির সরকারের।
করোনা মহামারির মধ্যেই আফগানিস্তানে নতুন উদ্বেগের কারণ পোলিও। দেশটিতে গেলো বছর সাড়ে ৩ শতাধিক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, করোনায় নজর দিতে গিয়ে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের টিকা খাওয়ানো কার্যক্রম।
তথ্য বলছে, দেশটিতে গেলো বছর পোলিও টাইপ ওয়ান রোগী পাওয়া যায় ৫৬ জন। যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া টাইপ টু শনাক্ত হয় তিন শতাধিক মানুষের শরীরে।
আফগানিস্তানের পোলিও বিশেষজ্ঞ মারজার রাশেখ বলেন, করোনার কারণে পোলিও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক। ২০২০ সালে দুই ধরনের পোলিও রোগী পেয়েছিলাম সাড়ে তিনশ’র বেশি। নিরাপদে টিকা কার্যক্রম না চালাতে পারলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি।
শুধু করোনাই নয়, দেশটিতে পোলিও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ তালেবানসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, টিকা দেয়ার নামে চরবৃত্তি চালায় পশ্চিমারা। যার মাধ্যমে পাকিস্তানে গিয়ে লাদেনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া পোলিও টিকা নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে আসছে জঙ্গিরা। এমনকি প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যকর্মীদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আফগানিস্তানে এ বছর দ্বিতীয় দফায় ৬০ লাখ শিশুকে পোলিও খাওয়ানো হয়েছে। এখনও কমপক্ষে ১ কোটি শিশুকে টিকা দেয়া প্রয়োজন। যদিও তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকার অন্তত ৩০ লাখ শিশুর কাছে পৌঁছানোটা অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
বৈশাখী নিউজ/ জেপা



















