মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করেনি দেশের জনগণ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে র‌্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা এই দেশের জনগণ গ্রহণ করেনি বলে মনে করেন পররাষ্ট্রনন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই কথা বলেন।

গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে ফোনালাপ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ফোন কলটা হয়েছিল, আলোচনার জন্য।’

ফোনালাপে র‌্যাবের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা হলেও তা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বা অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন কিছু বলেননি বলে জানান আবদুল মোমেন।

গত ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে র‌্যাব এবং বাহিনীটির বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতকে ডেকে এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। এর সপ্তাহ না পেরোতেই বুধবার সন্ধ্যায় আবদুল মোমেনকে ফোন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রায় ৩০ মিনিটের আলোচনায় আগামী বছর সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কথা বলেন।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নিড প্রাইসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বুধবার রাতে তাদের টেলি সংলাপে দ্বি-পক্ষীয় সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে সম্মত হয়েছেন।

দুই নেতা মানবাধিকারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার ও বৈশ্বিক অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মত হয়েছেন।

বুধবার নিড প্রাইস বলেন, ‘পররাষ্টমন্ত্রী ব্লিনকেন উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের সম্পর্কেও বিষয়টি পুনঃনিশ্চিত করেছেন।’

গতরাতে দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথোপকথনের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এক টুইটে বলেন, বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের সময় তারা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।

শাহরিয়ার আলম টুইটে বলেন, ‘দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে তাদের সংকল্প নবায়ন করেছেন।’

বৈশাখী নিউজ/ জেপা