বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রতিদিন তৃণমুলের শত শত নেতাকর্মী আসেন। সেখানে নেতা আর কর্মীর মেলবন্ধন তৈরি হয়। প্রিয় নেতার সান্নিধ্য পেতে বা সাংগঠনিক কোনো কাজে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যেমন নেতাকর্মী আসেন এখানে, তেমনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরাও আসেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘিরে থাকা কিছু সিন্ডিকেটের কারনে অনেক সময় কাছে ঘেষতে পারেন না অনেকে।
প্রিয় নেতার সাথে কথা বলতে বা কাছে একটা ছবি তুলতেও তাদের অনুমতি নিতে হয়, দেনদরবার করতে হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনও হয় বলে অভিযোগ আছে। নেতাকর্মীরা এ সিন্ডিকেটের নাম দিয়েছে ‘কুচকাওয়াজ পার্টি’। এই পার্টিতে বিরক্ত নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি ধানমন্ডির পার্টি অফিসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ঘেষায় এক নেতাকে মারধরের পর বিষয়টি আবারো সামনে এসেছে। এ নিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ভুক্তভোগী এক নেতা। এ ঘটনার ভিডিও এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের মাঝে ভাইরাল হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ধানমন্ডির পার্টি অফিসের সামনে অভিযুক্তের বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছে নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন পার্টি অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন তাকে প্রটোকল দিতে অনেকেই তার পেছন আসছিলেন। সেখানে ওবায়দুল কাদেরের ঠিক পেছনে থাকা মাহমুদুল আসাদ রাসেল(কাইল্লা রাসেল), সাবেক ছাত্রনেতা শহিদুল্লাহ রাজিবকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং ঘুষি মারেন। একইসাথে আরেক ছাত্রনেতা জাফরুল ইসলাম নাহিদকেও ঘুষি মারেন। ওবায়দুল কাদের সেখানে থাকায় এ নিয়ে ভুক্তভোগী কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শহিদুল্লাহ রাজিব বলেন, রাসেল প্রতিদিন কাদের স্যারের সাথে (ওবায়দুল কাদের) ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে। সেসব ছবি দেখিয়ে এলাকায় মানুষকে এই কাজ সেই কাজ, তদবির করিয়ে দেয়ার নামে টাকা পয়সা নেয়। এটাই তার ব্যবসা। ওইদিন ছবি তুলতে না পেরে আমাদের ওপর আক্রমন করেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটা সিন্ডিকেট আছে, যাদের জন্য কাদের স্যারের কাছে কেউ যেতে পারে না।
তিনি বলেন, এ ঘটনা পুরো সিসি টিভি ফুটেজ পার্টি অফিসে আছে। আমরা তার বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাকে এখনই না থামাতে পারলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে এবং নেতাকর্মীরা নাজেহাল হবে।
জানতে চাইলে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লক্ষীপুর জেলার কমলনগন থানা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, রাসেল বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে কাদের স্যারের সাথে দেখা করিয়ে দেয়া, তদবির করে দেয়া, ছবি তুলে টাকা নেয়, পদ পদবি দেয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নেয়। সে নিজেও প্রতিদিন ছবি তুলে কাদের স্যারের কাছের লোক বলে পরিচয় দেয়। এসব করে সে বিভিন্ন ধান্ধাফিকির করে। ওইদিন সে একটু পেছনে থাকায় আর ছবি তুলতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে।
এ সম্পর্কে অভিযুক্ত রাসেল বলেন অভিযোগ ভিত্তিহীন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/