তারেকুজ্জামান,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স (উদ্ভিদবিদ্যা) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলোচিত প্রান্ত মিত্র (২৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছে থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান।
ঘটনার সাথে জড়িত গ্রেফতারকৃত আসামীরা হচ্ছেন, সজিব শেখ (২৩), ইস্রাফিল মল্লিক (৩৪), সিফাতুল্লাহ বেপারী (১৯) ও মাসুম শেখ (৩৪)।
বুধবার (০২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানায়, প্রান্ত মিত্র (২৩) রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
২৫ জুলাই রাত আনুমানিক ০২ টার সময় তার বন্ধু হৃদয় তার বোনের প্রসব সংক্রান্ত জটিলতায় সাহায্য করার জন্য, দক্ষিণ আলিপুরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় থেকে একটি রিকশায় শিশু হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
আলীপুর ব্রিজে পৌঁছানোর পর কয়েকজন ছিনতাইকারী তার পথ বন্ধ করে এবং তার কাছ থেকে শাওমি মোবাইল এবং নগদ দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের বাম পাশে পেটের উপরে আঘাত করে হত্যা করে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ সড়কের ডিভাইডারে ফেলে যায়।
ওইদিন রাত ৩.২০ মিনিটে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এর দুইদিন পরে বুধবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাতে প্রান্তর বাবা বিকাশ মিত্র অজ্ঞাতদের অভিযুক্ত করে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন।
আটককৃত আসামিদের পরিচয়: ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন, গুহলক্ষীপুরের মোঃ শাহীন শেখের ছেলে, মোঃ সজিব শেখ (২৩), মমিন খাঁর হাট বাড়ি বর্তমান আলীপুর বাদামতলী সড়কের বাসিন্দা মৃত আবু তালেব মল্লিকের ছেলে মোঃ ইস্রাফিল মল্লিক (৩৪), টেপাখোলা, গোলাপদী মাতুব্বরের ডাঙ্গীর লিটন বেপারীর ছেলে মোঃ সিফাতুল্লাহ বেপারী (১৯), গুহলক্ষীপুর, এলি টিবি হাসপাতাল মোড়ের মৃত আ. সামাদ শেখের ছেলে মোঃ মাসুম শেখ (৩৪),
পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি চৌকস দল গঠন করা হয় এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়।
ছিনতাইকারীরা প্রান্তকে হত্যার পরে একইরাতে শহরের কমলাপুরে জেলা জাকের পার্টির সভাপতি মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে তার নিকট থেকে নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই সহ আরো ২টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে আমরা রিক্সা চালককে চিহিৃত করি। এরপর তার কথা মতো আমরা বিভিন্ন বিষয় অবগত হই।
এছাড়া সিসি ক্যামেরা ও মোবাইলের ওই সময়ের গতিবিধি লক্ষ্য করা হয় শহরের ওই এলাকার।
বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ০১ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭ টায় অভিযুক্ত মোঃ সজিব শেখ ওরফে তানভীর আহমেদ সজিব (২৩) কে ঢাকা শ্যামপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তার কাছে থাকা নিহত প্রান্ত মিত্রের হিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একই তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানা এলাকা থেকে আসামি মোঃ ইস্রাফিল মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়।
পরে এই দুই আসামিদের স্বীকারোক্তি ও তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরেরদিন ০২ তারিখ রাত ১.৩০ এর দিকে কানাইপুরের বাসিন্দা রাজীবের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সেভেন গিয়ার ছুরি, একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত সজিব একই তারিখ রাত ৩.৩০ এর দিকে ধরা পড়ে, ইসরাফিলের দেওয়া তথ্যমতে, আসামি সিফাতকে কোতয়ালি থানাধীন টেপাখোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে সজীবের রক্তমাখা শার্ট ও ০১ জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, একই, তারিখে আনুমানিক ০৪.৩০ এর দিকে অভিযুক্ত মাসুমকে ভাজনডাঙ্গা টিভি হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা সবাই মাদকসেবি। জেলখানা থেকে তাদের পরিচয়। তারা মাদকসেবন ও পতিতালয়ে ফুর্তি করত এসব ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে। প্রান্তকে হত্যা করে ছিনতাইয়ের পর তারা শহরে আরো কয়েকটি ছিনতাই সংগঠিত করে।
পুলিশ আসামীদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড এর আবেদন জানাবেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত প্রান্তের মা ও বাবা বিকাশ মিত্র। তারা এসময় কান্নাজড়িত কন্ঠে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এ সময় সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ ইমদাদ হুসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শৈলেন কুমার চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অফস) মোঃ শেখ আব্দুল্লাহ বিন কালাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার, কোতয়ালী থানার ওসির এম এ জলিল, ডিবির ওসি রাকিবুল ইসলাম, ট্যাফিক ইন্সপেক্টর তুহিন লস্কর সহ ঘটনার উদ্ধারের সহযোগিতাকারী পুলিশের কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কমরর্ত সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৫ জুলাই) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে হৃদয় নামে এক বন্ধুর ফোন পেয়ে শহরের ওয়ারলেসপাড়ার বাসা থেকে রিকশায় করে শিশু হাসপাতালের উদ্দেশে যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাতে নিহত হন প্রান্ত।
এর দুদিন পরে বুধবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে প্রান্তের বাবা বিকাশ মিত্র অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় এ মামলা করেন।
এ ঘটনা দেশ ও দেশের বাইরে আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে দোষিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি আলোচিত হয় ব্যাপক ভাবে।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/