ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ধারাবাহিক হারের দগদগে ক্ষত নিয়ে আজ মাঠে নামছে পাকিস্তান। হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে টিকে থাকার প্রত্যয়ে আজ খেলবে তারা।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে ম্যাচটি শুরু হচ্ছে বেলা আড়াইটায়। টসভাগ্য আজ বাবর আজমের পক্ষে গেছে।
আজ আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইপ আপ ধসিয়ে দিতে আফগানিস্তানের তিন স্পিনার সচেষ্ট থাকবেন।
পাকিস্তানের স্কোয়াডে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ নওয়াজ। তার বদলে অলরাউন্ডার শাদাব খানকে একাদশে ঠাই দেওয়া হয়েছে। নওয়াজ আগের দুটি ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন।
জোড়া জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা পাকিস্তান টানা দুই ম্যাচে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বেকায়দায়। সুযোগটা নিতে চায় প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে যাওয়া আফগানিস্তান।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের একমাত্র জয়ের ম্যাচে আট উইকেট নিয়েছিলেন তিন স্পিনার রশিদ খান, মুজিব উর রেহমান ও মোহাম্মদ নবী।
স্পিন-স্বর্গ হিসাবে পরিচিত চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আজ স্পিন দিয়েই পাকিস্তানকে ঘায়েল করার স্বপ্ন দেখছে আফগানরা।
রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তান-আফগানিস্তান দ্বৈরথ মাঠ ও মাঠের বাইরে বাড়তি উত্তাপ ছড়ায়।
২০১৯ বিশ্বকাপে লিডসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তান তিন উইকেটে জেতার পর স্টেডিয়ামের বাইরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন দুদলের সমর্থকরা।
আফগানিস্তানের ইংলিশ কোচ জোনাথন ট্রটের প্রত্যাশা, এবার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের ঝাঁজ মাঠের সীমানা ছাড়াবে না।
ওয়ানডেতে দুদলের আগের সাত ম্যাচেই জিতেছে পাকিস্তান। কিন্তু এবার চেন্নাইয়ে খেলা হওয়ায় আফগান স্পিনারদের নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত পাকিস্তানের সাবেকরা।
সেই ভয় কাটাতে এই মাঠে পূর্বসূরিদের গর্বের কীর্তির কথা কাল মনে করিয়ে দিলেন পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল হক। চেন্নাইয়ে খেলা আগের দুই ওয়ানডেতেই জিতেছে পাকিস্তান।
এখানেই ১৯৯৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ১৯৪ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন সাঈদ আনোয়ার।
সেখান থেকেই প্রেরণা খুঁজছেন ইমাম, ‘চেন্নাইয়ে আমাদের দুর্দান্ত রেকর্ডই হতে পারে প্রেরণা। সাঈদ আনোয়ারের সেই রেকর্ডের কোনো স্মৃতি আমার নেই। তারপরও এটি আমাদের সবার প্রেরণা।’
আফগানিস্তানের পর শুক্রবার চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। দুটি ম্যাচই জিততে চান ইমাম।
চেন্নাই জয়ের অভিযানে আফগান স্পিনারদের নিয়ে আতঙ্কিত নন তিনি, ‘হারলে সব সময়ই আত্মবিশ্বাস নড়ে যায়। নতুন কিছু দেখবেন আপনারা। ছয় ম্যাচে চারটি জয় নিয়ে কলকাতায় যেতে চাই আমরা।
জানি, এখানে স্পিনারদের জন্য বাড়তি কিছু থাকে। আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী। কিন্তু সম্প্রতি শ্রীলংকায় একই কন্ডিশনে আমরা তাদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছি। এবারও আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। যেকোনো চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তুত।’
জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ট্রটও। তবে পাকিস্তানকে হারাতে শুধু স্পিনের মন্ত্র জপতে নারাজ আফগানিস্তানের ইংলিশ কোচ, ‘ম্যাচ জিততে সব সময়ই লাগে সম্মিলিত চেষ্টা। এটা শুধু স্পিনারদের কাজ নয়। ব্যাটারদেরও বড় অবদান রাখতে হয়।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/