কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের আওয়ামী রাজনীতির সিংহপুরুষ, বর্ষীয়ান নেতা বটবৃক্ষ তুল্য জননন্দিত নেতা প্রয়াত সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
জননন্দিত এ নেতা চলতি বছরের আগস্টে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ময়মনসিংহের চরাঞ্চল সহ প্রতিটি গ্রামে গ্রামে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেছেন।
তার নেতৃত্বে অসংখ্য মানুষ আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের দুই বারের সংসদ সদস্য।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ময়মনসিংহ - ৪ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও মহাজোটের সমঝোতার জন্য জাতীয় পার্টিকে সদর - ৪ আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে।
তিনি দলের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে একটুও আপত্তি করেননি।
প্রয়াত নেতা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের রেখে যাওয়া সেই নৌকার কান্ডারী হিসেবে তারই উত্তরসূরী সুযোগ্য ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তর হাতেই তুলে দিয়েছেন জননেত্রী, দেশনেত্রী দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
ময়মনসিংহ - ৪ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মোহিত উর রহমান শান্তর নাম ঘোষণা করার পর থেকেই ময়মনসিংহ সদরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে।
বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। নৌকার প্রার্থীর নাম ঘোষনার সাথে সাথে শিববাড়ি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। নেতাকর্মীরা একে অপরকে সাধারণ জনগণকে মিষ্টিমুখ করান।
নেতাকর্মীরা বলেন, ময়মনসিংহের উন্নয়নে শান্ত ভাইয়ের বিকল্প নেই। সদর আসনে নৌকার প্রার্থী পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার আজ অবসান ঘটেছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী করায় দলের প্রধান শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মোহিত উর রহমান শান্ত।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবাকে সারাজীবন এই আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমার বাবা গত হয়েছেন এ বছরের শোকাবহ আগস্ট মাসেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সম্মান জানিয়েছেন আমাকে মনোনীত করার মাধ্যমে। সারাজীবন বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যার প্রতি আমার বাবার যে বিশ্বস্ততা, সেই লড়াই-সংগ্রামের প্রতিদান দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
আমি ছাত্রলীগ করেছি, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলাম। শুধুমাত্র এইটুকু অর্জনের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে আমার জন্য মনোনয়ন পাওয়াটা সম্ভব ছিল না।
জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবার সারাজীবনের লড়াই-সংগ্রাম এবং আদর্শচ্যুত না হওয়ার পুরস্কার হিসেবে আমাকে এই আসনটি উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের দুইবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মোহিত উর রহমান শান্ত ১৯৯০ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন যুক্ত হন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।
সেই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সরব ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ শহর শাখা ছাত্রলীগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, শহর ছাত্রলীগ ও আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন এবং আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচিতে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত রেখে রাজপথে সরব ছিলেন শান্ত।
২০০২ সালে ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে বোমা হামলার অভিযোগে বাবা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সঙ্গে শান্তকেও গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৪৫ দিন কারাবরণ করেন তিনি। এছাড়া বিএনপি শাসনামলে আরও ১৭ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন শান্ত।
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজেও সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে মোহিত উর রহমান শান্তর। তিনি ময়মনসিংহের সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের বিদ্যালয় ‘ঘাসফুল’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
প্রয়াত ভাইয়ের নামে ডা. শুভ এতিমখানা ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমির দাতা সদস্যও তিনি।
এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য প্রয়াত সায়েমের স্মৃতি রক্ষার্থে গঠিত দিপু সায়েম ক্রীড়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা এবং মিন্টু কলেজ জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও রয়েছেন।
নৌকার কান্ডারি মোহিত উর রহমান শান্ত আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যে মূল্যায়ন আমার বাবাকে করেছেন আমি সেটির প্রতিদান দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।
আমার বাবা কর্মের মাধ্যমে ময়মনসিংহবাসীর মাঝে বেঁচে আছেন। সন্তান হিসেবে আমি বাবার কর্মপন্থা, ত্যাগ ও লড়াই-সংগ্রাম করা উদ্যোম দেখেছি।
আমি বাবার মতো করে, বাবার পথ অনুসরণ ও অনুকরণ করে মানুষের মাঝে থাকার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও জানান, আমি যদি জনগণের মাঝে থাকতে পারি, জনগণ যদি আমার সাথে থাকে তাহলে এই আসন জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
জনগণকে সাথে নিয়ে বিজয়ের মাধ্যমে এ আসনটি জননেত্রী, দেশনেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যাকে উপহার দিয়ে প্রমাণ করে দিব যে ময়মনসিংহের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে, বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার নিমিত্তে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নৌকার উন্নয়নের সহযাত্রী হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করায় সকলের অংশগ্রহনের উদাত্ত আহবান জানান।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/