কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দায় চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলার আসামি দেলোয়ার এবং দৌলতকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানাধীন লতিফপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব -১৪, ময়মনসিংহ।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারী) দুপুর আনুমানিক ২ টায় ধর্ষণ মামলার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ মহোদয়ের নির্দেশক্রমে র্যাব-১৪, সদর ব্যাটালিয়নের অপারেশনস্ অফিসার উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে এক আভিযানিক দল মামলার অন্যতম আসামি দেলোয়ার
হোসেন (২২) ও দৌলত মিয়া (২৩) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
দেলোয়ার হোসেনের পিতার নাম মো. সালাম মিয়া, সাং-জয়নগর ও দৌলত মিয়া, পিতা- হোসেন আলী, সাং- রাধানগর, উভয় থানা - কলমাকান্দা, জেলা - নেত্রকোণা।
এজাহার পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর ছাত্রী।
মাদ্রাসায় যাওয়া- আসার পথে আসামিরা প্রায়ই ভিকটিমকে উত্যক্ত করত এবং অশালীন কথাবার্তা বলত । গত বছরের ১১ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রীষ্টাব্দে ভিকটিম বিষয়টি তার মাকে জানায়।
ঐদিন বিকেলে ভিকটিমের মা বিষয়টি মহিলা ইউপি সদস্যকে জানান। পরে ভিকটিমের মা ইউপি সদস্যসহ আসামি মনির মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে তার অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে আসামি মনির মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন ইউপি সদস্যসহ ভিকটিমের মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন ।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে,আসামি মনির মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন ভিকটিমের মা এবং ইউপি সদস্যকে মারপিঠ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন।
খবর পেয়ে ভিকটিমসহ তার প্রতিবেশিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের মা এবং মহিলা ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে পাশের বাড়ীতে নিয়ে আসেন।
এ সময়, ভিকটিম তার মায়ের কাপড়-চোপড় নেওয়ার জন্য বাড়িতে গেলে আসামিরা সুযোগ বুঝে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে পাশের ধান ক্ষেতে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
ভিকটিমের ডাক-চিৎকারে তার পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ভিকটিমকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ০৩ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ০২ জনকে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
পরে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। যার মামলা নং-০৮, তারিখ - ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রীষ্টাব্দে ধারাঃ ৭/৯(৩) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, (সংশোধনী/২০২০)।
উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামীগণ সু-কৌশলে তাদের নিজ বাড়ি ত্যাগ করে গা ঢাকা দিয়ে ছদ্মবেশে পলাতক ছিল।
"বাংলাদেশ আমার অহংকার”এই স্লোগান নিয়ে র্যাব যুব সমাজ তথা বাংলাদেশকে মাদকের ভয়াল থাবা, সন্ত্রাস, জঙ্গী, ছিনতাই, ডাকাতি, জুয়া, অপহরণ, খুন, ধর্ষণ, অসাধু অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কর্মকান্ড থেকে রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশব্যাপী আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বস্তরের জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ কর্তৃক গত ইং ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ইং তারিখ এই মামলার প্রধান অন্যতম আসামি মো. মনির মিয়া (২৪), পিতা - মো. - নাজিমুদ্দিন, গ্রাম- জয়নগর, থানা - কলমাকান্দা, জেলা - নেত্রকোনাকে গ্রেফতার করে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/