তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর গোয়ালচামট নতুন বাসস্ট্যান্ডের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অজ্ঞাতনামা (লাগেজে ভর্তি লাশ) হত্যা মামলার মূল রহস্য দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্নরূপে উদঘাটন সহ আসামী গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত হত্যাকারী আসামী গোয়ালন্দ যৌন পল্লীর বাসিন্দা রোজিনা আক্তার এবং হত্যার শিকার পাবনা জেলার মিলন প্রামানিক।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, গত ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ফরিদপুর গোয়ালচামট নতুন বাসস্ট্যান্ড গোল্ডেন লাইন কাউন্টারের পূর্ব দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি লাগেজ পাওয়া যায়।
পরিত্যক্ত লাগেজটি দেখে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় লাগেজের তালা ভেঙে খুলে অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশ দেখতে পায়। ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
প্রাথমিকভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় কোতয়ালী থানার এসআই মোঃ শামীম হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী রোজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ১০ থেকে ১২ বছর যাবৎ গোয়ালন্দঘাট দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে আছে। তার বয়স যখন ১৪ বছর তার বাবা মা তাকে বিয়ে দেয়।
বিবাহের কিছু দিন পর তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর চায়ের দোকানদার হাকিম এর সাথে তার ২য় বিবাহ হয়। হাকিম মারা যাওয়ার পর সে সুজনকে ৩য় বিবাহ করে।
আসামী আরো জানায়, হত্যার শিকার মিলন প্রামানিক এর বাড়ী পাবনা সদর হলেও রাজবাড়ী জেলায় বিভিন্ন ইট ভাটায় কাজ করত এবং মাঝে মাঝে যৌন পল্লীতে আসত। গত ২৬ জানুয়ারি উক্ত মিলন গ্রেফতারকৃত আসামীর ভাড়া বাসায় যায় এবং ২৭ জানুয়ারি রাত অনুমান ০২ টার দিকে তাদের মধ্যে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে মিলন আসামীর মাকে তুলে অশ্লীল ভাষায় গালি দিলে আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিহিত ওড়না দ্বারা গলায় পেঁচ দিয়া মিলনকে হত্যা করে। তার এর মৃত্যু নিশ্চিত হলে তাকে খাট থেকে নামিয়ে লাশটি কালো রঙের ১টি কম্বল, ১টি সাদা লাল বেগুনী রঙের বড় বেড শীট, একই রঙের ৩টি বালিশের কাভার দ্বারা মুড়িয়ে তার ঘরে থাকা বড় ১টি লাগেজ এর ভিতরে রাখে।
পরবর্তীতে সকাল অনুমান সাড়ে ৬ টার দিকে লাশ ভর্তি লাগেজটি নিয়ে রিক্সা যোগে গোয়ালন্দ বাজারে যায়। সেখান থেকে ফরিদপুর যাওয়ার জন্য ৬শত টাকা দিয়ে ১টি মাহেন্দ্র গাড়ীতে লাশ ভর্তি লাগেজসহ উক্ত আসামী ফরিদপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড গোল্ডেন লাইন কাউন্টারের পূর্ব পাশে বিকাশ পরিবহনে ৮ টা ২৫ মিনিটের গাড়ীতে টিকিট কাটে এবং লাশ ভর্তি লাগেজটি গাড়ির হেলপারের সহায়তায় গাড়ীর বক্সে রাখে। গাড়ী ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হইলে কৌশলে নাস্তা খাওয়ার কথা বলে সে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশের একটি চৌকস টিম মামলাটির তদন্ত শুরু করে। উন্নত তথ্য-প্রযুক্তি ও স্থানীয় তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি সকাল অনুমান ৮.টায় অজ্ঞাতনামা ১জন বোরকা পরিহিত মহিলা মাহেন্দ্র গাড়ীতে এসে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিকাশ পরিবহনে ১টি টিকেট কাটে এবং লাগেজটি গাড়ির মালামাল রাখার বক্সে রেখে নাস্তা করার কথা বলে পালিয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ে গাড়িটি ছাড়ার মুহুর্তে লাগেজের মালিককে না পেয়ে গাড়ি কর্তৃপক্ষ লাগেজটি ঘটনাস্থলে রেখে যায়।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে নিবিড় তদন্তকালে পুলিশ টিম রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানাধীন গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ী ও গাড়ীর ড্রাইভারকে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয়।
তার দেয়া তথ্যমতে লাগেজ বহনকারী রিক্সা চালককে হেফাজতে নিয়ে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন পতিতাপল্লীর জনৈক রুবেল মাতুব্বর এর বাড়ীর ২য় তলার ভাড়াটিয়া রোজিনা'র বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনার পর হতে রোজিনা পলাতক ছিল।
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে ৩০ জানুয়ারি দিবা গত রাত ০৩ টার সময় ঢাকা কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকার মোঃ দেওয়ান বাড়ীর ৬ তলা হতে গ্রেফতার করা হয়।
উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান। সহ ফরিদপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তা বৃন্দ। এ সময় ফরিদপুরে কর্মরত প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/