শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) আকস্মিক ভাঙনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ এখন দিশেহারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বছরের পর বছর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই এখন এ ভাঙনের মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
এদিকে ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে।
কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে যমুনার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। গত দুই দিনে পানি বেড়েছে প্রায় ১০০ সেন্টিমিটার। তীব্র স্রোতের কারণে ঘূর্ণিবর্ত সৃষ্টি হয়ে নদীপাড়ে আঘাত হানছে।
বুধবার ধুনটের শহড়াবাড়ি স্পার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩০০ মিটার এলাকা নদীতে তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও চাষযোগ্য জমি বিলীন হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র বালু উত্তোলন চলছে। যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ তাদের।
তারা বলেন, বালুমহাল বাদ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতিবছর ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শুধু ধুনট নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন উপজেলায় প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন বিস্তৃত। ভাঙন ঠেকাতে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজানের ঢলে পানি কিছুটা বেড়ে আবার কমছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে কাজ চলছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বগুড়ার তিন উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন রোধে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। ২০০১ সালে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকায় স্পার নির্মাণ করা হয়।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/