ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে শুরু করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ— কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখছে না ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান তুলে ধরেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবির ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা।
ব্রিফিংয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, “যে সরকার হাদিকে রক্ষা করতে পারে না, সে বাংলাদেশকে কীভাবে রক্ষা করবে। আল্লাহ না করুক, ওসমান হাদির কিছু হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ভার নিতে হবে।”
হামলার পেছনে কারা থাকতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে সন্দেহের চোখে দেখছি না; আবার কাউকে সন্দেহের বাইরেও রাখছি না। ভোটের রাজনীতিতে অনেকে ওসমান হাদিকে প্রতিপক্ষ মনে করতে পারে। এমন কারণেও হতে পারে।
“আবার এমনও হতে পারে, যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ওসমান হাদির বলিষ্ঠ অবস্থানকে ভয় পায়। তারা ভাবতে পারে, ওসমান হাদিকে মেরে ফেললে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসা যাবে। আমরা জানিয়ে রাখতে চাই, ওসমান হাদি এখন ঘরে ঘরে তৈরি হয়েছে।”
এভারকেয়ার হাসপাতালে হাদির জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে জাবির বলেন, প্রয়োজনে যেন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়।
ব্রিফিংয়ে জাবির ও জুমা অনুরোধ করেন, তাদের দুজনের বাইরে অন্য কারও বক্তব্য যেন ইনকিলাব মঞ্চের বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা না হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার বেলা ১২টায় শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণাও করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধারণা, গুলি হাদির মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শরীফ ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো—সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হাদি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেছিলেন, “এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।”
গত জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বিএনপি যদি ‘পুরোনো ধারায়’ রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরের বেশি টিকতে পারবে না। একই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে তিনি একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/