পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। হিমালয় পাদদেশীয় এই সীমান্ত জেলায় গত দশ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করায় পুরো এলাকা মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় মাঠ-ঘাট ঢেকে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মেলে। তবে রোদ থাকলেও তাপের অনুভূতি না থাকায় শীতের তীব্রতা কমেনি। ঠান্ডা বাতাসে শীতের দাপট আরও বেড়েছে।
এর আগের দিন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ওই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রোববার (১১ জানুয়ারি) তা নেমে আসে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি শীত মৌসুমে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা হলেও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখানেই রেকর্ড হচ্ছে।
টানা দশ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় এলাকায় মাঝারি ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনেও এই শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে প্রচণ্ড শীতে তেঁতুলিয়ার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/