ফাহিম আহমদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর. ডা শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পালটে যাবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো।
দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভুমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ তা পাঁচ বছরেই ধরা দেবে।
জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। যে দেশেই থাকুক নিয়ে আসা হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয় তবে তা বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেট হচ্ছে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তারই উত্তরসূরী।
বাংলাদেশ গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোন জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না।
আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। মামলা বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে। জুলুম করেছে।
তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকলে সে আইনের সহায়তা নিতে পারবে।
তিনি শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
বেলা আড়াইটার দিকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই দুপুর থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। ৩টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
এরপর আশপাশের রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের জনসভায় বিপুলসংখ্যক নারীরা অংশ নেন। তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়া জনসভা মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষে জামায়াত আমীর সিলেটের ৬টি ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের হাতে স্ব স্ব দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রার্থীগণ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে জামায়াত আমীর হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
সিলেটে খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না।
সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ গাঁজা- জুয়ায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো।
কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ। এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোন অফিস আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগরী আমীর ও মহানগর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারী সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জয়নাল আবেদীনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সিলেটের ৬টি আসন ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জোটের প্রার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিগত দিনের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেস্তা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন কেউ কম বা কেউ বেশি।
যারা জনগনের টাকা চুরি করেছে আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তি দেবো না। তাদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।
সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না।
আমরা নামে নয় কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হবে।
ঢাকা-সিলেট ৬ লেনের ঝিমিয়ে পড়া কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে পরিনত করে বুলেট ট্রেন সংযুক্ত করা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেবো। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার জলা তার হবে। চা বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
নিজের এক্স একাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, একদল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে।
আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমাজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে, চোরের তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখন তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চুরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে সেই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। যোগ্যতা থাকলে চা শ্রমিকের ছেলেও যেনো যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারে আমরা সেই সংস্কৃতি চালু করতে চাই।
চাহিদার তুলনায় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা তুলনামুলক কম। আমরা নির্বাচিত হলে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন ভাতা নিশ্চিত করবো। এরপরও যারা ঘুষ খাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। আমি এখানে বড় হয়েছি। আজ জামায়াতের আমীর হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি।
আমাদের একবার সুযোগ দেন। আমরা দেশের মালিক বনবো না। আপনাদের চৌকিদার হবো। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করবো। তিনি দেশ সঠিক পথে পরিচালনার জন্য গণভোটে ‘হ্যা’ এর পক্ষে ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার সিন
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/