নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু উৎসব শুরু

আপডেট: April 12, 2026 |
inbound8347726813998613169
print news

পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব শুরু হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকে নদী, ছড়া, ঝরনাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুল ভাসিয়ে শুরু হয় এই উৎসব।

উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। এই দিনে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়।

ফুল ভাসিয়ে সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করেন চাকমা নারী-পুরুষ ও শিশুরা। নারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি ও পুরুষেরা ধুতি পরে উৎসবে যোগ দেন।

আজ ভোরে পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যাম এলাকায় চেঙ্গী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ফুল ভাসাতে ভিড় করেছেন স্থানীয় চাকমা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। তাদেরই একজন প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা। দুই কিলোমিটার দূরে লতিবান এলাকা থেকে এসেছেন তিনি।

তিনি বলেন, একসময় সন্তানদের নিয়ে ফুল ভাসাতে আসতাম। এখন বয়স বাড়ায় কষ্ট হলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে এসেছি, মনের শান্তির জন্য। এবার প্রাণভরে প্রার্থনা করলাম, সবাই মিলেমিশে যেন ভালো থাকতে পারি, পৃথিবীতে যেন শান্তি থাকে।

উৎসব দেখতে রাবার ড্যাম এলাকায় ভিড় জমান সমতলের লোকজনও। কক্সবাজার থেকে উৎসব দেখতে আসেন উপমা বড়ুয়া ও সালমা আক্তার।

তারা জানান, ২০২৪ সালে একবার রাঙামাটিতে ফুল ভাসানো উৎসব দেখতে গিয়েছিলেন দুজন। উৎসব দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছিলেন। এবার তাই আবারও ফুল ভাসানোর উৎসব দেখতে এসেছেন।

সরেজমিন উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত চাকমার সঙ্গেও কথা হয়।

তিনি বলেন, বিজু আদিকাল থেকেই চলে আসছে। বিজু মানে আনন্দ, হইহুল্লোড়, বিজু মানে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো। বিজু মানে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা।

বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন চাকমারা বিজু উদ্‌যাপন করেন। আজ ফুল বিজু, ১৩ এপ্রিল রোববার মূল বিজু, ১৪ এপ্রিল নু’অ বজর বা নতুন বছর, আর পয়লা বৈশাখের পর দিন উদ্‌যাপিত হয় গোজ্যেপোজ্যে দিন’ হিসেবে।

উৎসবের প্রথম দিনে পূজা-অর্চনা ও বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। দ্বিতীয় দিনে অতিথি আপ্যায়ন ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় দিনে হাঁস-মুরগি ও পশুপাখিদের খাবার দেওয়া ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়া হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর