ফাহিম আহমদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের দোকানগুলো অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পজেশনধারী ব্যবসায়ীরা।
হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে দোকানগুলো তালাবদ্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘ ২৬-২৭ বছরের বৈধ চুক্তিভিত্তিক ব্যবসা হঠাৎ করে একতরফাভাবে বাতিল ও বন্ধ করে দেওয়ায় তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রোববার দুপুর ১২টায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি মো. ইনামুল করিম চৌধুরী।
এতে মার্কেটের একাধিক দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৯৯ সালের ৫ জানুয়ারি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ১ থেকে ৭ নম্বর দোকানের জন্য দরপত্রে অংশ নেন।
পরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তারা প্রায় কোটি টাকার সেলামী প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ ট্রাস্ট বোর্ডের সঙ্গে পৃথক সাতটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের স্থায়ী ভাড়াটিয়া হিসেবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন এবং অনেকেই ২০২৬ সাল পর্যন্ত অগ্রিম ভাড়াও পরিশোধ করেছেন, যার যথাযথ রসিদ তাদের কাছে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই ব্যবসার ওপর ভিত্তি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
তবে চলতি বছরের ১০ মার্চ ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি স্মারকের মাধ্যমে জানানো হয় যে তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে দোকান খালি করে দখল হস্তান্তর করতে বলা হয়। ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে একতরফা, বেআইনি ও চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেন।
এরপর বিষয়টি নিয়ে তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট বিভাগ ১২ মার্চ দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং পৃথক রিটের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আদালতের এই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তা উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে পদক্ষেপ নিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২৫ মার্চ বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দোকান পরিদর্শনে এসে দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন। তারা আদালতের আদেশ দেখালেও কোনো সমাধান পাননি।
পরদিন ২৬ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় পুনরায় উপস্থিত হয়ে দোকানগুলোর শাটারে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এতে দোকানের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ পচনশীল ও অন্যান্য পণ্য আটকে পড়ে, যা ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
বর্তমানে দোকানগুলো জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এতে তাদের চলমান ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
তারা বলেন, “দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছি। কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য ফল আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে দোকান তালাবদ্ধ রাখা শুধু তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, বরং দেশের প্রচলিত ভাড়াটিয়া চুক্তি ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শেষে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা অবিলম্বে দোকানগুলোর তালা খুলে দেওয়ার, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানান।
প্রায় তিন দশক ধরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও হঠাৎ করে চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদ নোটিশ দেশের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।
এতে ব্যবসা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমদ তাফাদার, ইনামুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ সানাজ, আল আমিন আহমদ, মো. আব্দুর রহিম বাদশা, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/