মোহাম্মদ রেজাউল করিম, স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্যাংক নোট হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি। যার মধ্যে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো ছাপানো থাকে।
এতে করে জনমনে ঐ দেশ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। অথচ ব্যাংক নোটে লেখালেখি বা আঁকাআঁকি করা আমাদের অনেকেরই একটি খারাপ অভ্যাস।
তবে এটি কেবল টাকার সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, এর পেছনে কিছু গুরুতর আইনি ও অর্থনৈতিক পরিনাম রয়েছে।
নিচে ব্যাংক নোটে আঁকাআঁকির মূল পরিণামগুলো তুলে ধরা হলো:
১. আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী, সরকারি বা ব্যাংক নোটে কোনো কিছু লেখা, স্বাক্ষর করা, সিল মারা বা আঁকাআঁকি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
• নোটে বিকৃতি ঘটানোর অপরাধে জরিমানা এবং এমনকি কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
• কোনো নোটের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দাগ দিলে বা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান লিখলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
২. নোটের স্থায়িত্ব হ্রাস ও রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি
টাকা তৈরিতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। নোটে কালি লাগলে বা আঁকাআঁকি করলে সেটি দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী বা 'ময়লা নোট'-এ পরিণত হয়।
আর্থিক ক্ষতি: বাজারে নোটে ঘাটতি দেখা দিলে সরকারকে পুনরায় বিপুল টাকা খরচ করে নতুন নোট ছাপাতে হয়, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
৩. লেনদেনে অস্বীকৃতি ও ভোগান্তি
সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীরা অনেক সময় অতিরিক্ত লেখা বা দাগযুক্ত নোট নিতে চান না।
• বাজারে এমন নোট দিয়ে কেনাকাটা করতে গেলে আপনি চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন, কারণ বিক্রেতা সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
• কোনো নোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ (যেমন: জলছাপ, সিকিউরিটি থ্রেড বা সিরিয়াল নম্বর) কালির নিচে ঢাকা পড়ে গেলে সেটি অচল বলে গণ্য হতে পারে।
৪. ব্যাংকে জমাদানে জটিলতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পরিপত্র বা নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত লেখালেখি বা সিলযুক্ত নোট ব্যাংকগুলো সহজে গ্রহণ করতে চায় না।
• নোটে যদি এমনভাবে আঁকাআঁকি করা হয় যার ফলে আসল-নকল চেনা কঠিন হয়ে যায়, তবে ব্যাংক সেটি 'বিনিময় অযোগ্য' বা 'বাতিল' ঘোষণা করতে পারে। ফলে আপনার সাধের টাকাটি পুরোপুরি মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে।
আমাদের করণীয়:
টাকা আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। তাই ব্যাংক নোট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব। কোনো কিছু লেখার প্রয়োজন হলে ডায়েরি বা নোটপ্যাড ব্যবহার করুন, দেশের মুদ্রা নয়।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/