ঢাকার আদালতে ২৯ লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের মামলায় আরেক নারীর হয়ে প্রক্সি দিয়ে ধরা পরা মনোয়ারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামরুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
২৯ লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি নামে এক সরকারি চাকরিজীবী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ধার্য দিন ছিল ১৬ জুন। সে দিন আসামি আদালতে হাজির হননি।
ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয় ২০ অগাস্ট।
তবে বৃহস্পতিবার আসামি নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। পরে ধরা পড়েন মনোয়ারা এবং থানা পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বৃহস্পতিবার রাতে নাসরিন সিকদার, তার হয়ে আদালতে প্রক্সি দিয়ে ধরা পরা মনোয়ারা বেগম ও আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করে মামলা করেন।
পাশাপাশি নাম না তুলে ধরে আরো একাধিক জনকে আসামি করা হয় মামলায়।
শুক্রবার ওই মামলায় মনোয়ারাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই ওয়ালিদ হোসেন তার তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মনোয়ারার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
বিচারক মনোয়ারার কাছে জানতে চান এমন কাজ আগেও করেছেন কিনা। মনোয়ারা বলেন, ‘না’।
নাসরিন সিকদার কী হয়- বিচারকের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু না’।
কিছু না হলে কেন (প্রক্সি) করেছেন- বিচারকের এই মনোয়ারা বলেন, “আমি চেম্বারে কাজ করি। উকিল নিয়ে গেছে।”
এরপর বিচারক মনোয়ারাকে বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তাকে সব বলে দিবেন।”
এরপর বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।
প্রক্সি দেওয়ার মামলায় অভিযোগ করা হয়, নাসরিন সিকদারের মামলাটি ঢাকার ৪র্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মনোয়ারা বেগম প্রকৃত আসামি পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। শুনানিকালে তার নাম-ঠিকানা ও মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সঠিকভাবে বলতে পারেনি।
আদালতের সন্দেহ হলে তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নথিপত্র, পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, ওই নারী প্রকৃত আসামি না এবং মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। নাসরিন সিকদার ও হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মনোয়ারাকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রকৃত আসামি সাজিয়ে আদালতে উপস্থিত হতে প্ররোচিত করেন।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মামলার নথিভুক্ত ওকালতনামায় নিজের হাতে নাম লিখেছেন এবং ভুয়া ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই মামলা পরিচালনার ক্ষমতা তার নেই।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, বিচারিক কার্যধারায় প্রতারণামূলকভাবে অন্যের রূপ ধারণ করে আসামিরা মূল্যবান জামানত জাল-জালিয়াতি করেছে।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/