জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি জামায়াতে ইসলামীর বলয় থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র রাজনীতি করতে না পারে, তবে দেশে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এনসিপির উত্থান জরুরি ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক ‘জুলাই পদযাত্রায়’ দলটির জনসমর্থনে স্পষ্ট ভাটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপির শীর্ষ নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগের মতো উদ্দীপনা নেই। সাভারে দলটির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের পরও ঢাকায় কোনো জোরালো প্রতিবাদ হয়নি। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইসহাক সরকারের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদী মিছিল হয়েছে, সেখানে মাত্র ২০-২৫ জন লোক ছিল। অথচ একসময় তার ডাকে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসত।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে দাবি করেন, এনসিপি জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ায় নতুন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন পুরাতন জামায়াতের হাতে চলে গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মেছে যে, এনসিপি আসলে জামায়াতেরই একটি অঙ্গ সংগঠন। এছাড়া জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের দিয়ে এনসিপিকে বড় করার বিষয়টিও এখন জনসমক্ষে পরিষ্কার।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ জামায়াতের সমর্থনে এমপি হওয়ায় তারা সম্ভবত দলটিকে জামায়াতের প্রভাবমুক্ত করতে চাইবেন না। যদি তারা স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরিতে ব্যর্থ হন, তবে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবে। আর এই শূন্যতায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ পুনরায় প্রাসঙ্গিক হওয়ার সুযোগ পাবে, যা জাতির জন্য বড় বিপদের সংকেত।
জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, “জামায়াত তার সক্ষমতা বুঝে ফেলেছে। তারা কখনো পুরোপুরি সরকারি দল বা বিরোধী দল হওয়ার ঝুঁকি নেবে না। স্বাধীনতা না চেয়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঝুঁকি নেওয়া জামায়াতের পক্ষে সম্ভব নয়।” এমতাবস্থায় এনসিপিকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে সত্যিকার অর্থেই ‘নতুন বন্দোবস্তের দল’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/