স্বপ্ন রোজ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (UCB)-র নতুন রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ ও গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য যেখানে ফেস ভ্যালু বা অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে, সেখানে নতুন করে প্রিমিয়াম বা সমমূল্যে রাইট শেয়ার ছাড়ার এই সিদ্ধান্তকে চরম অযৌক্তিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণত কোনো কোম্পানির শেয়ারের বাজারদর যখন ফেস ভ্যালুর নিচে থাকে, তখন রাইট শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্তটিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বার্থবিরোধী বলে মনে করা হয়। কারণ, বিনিয়োগকারীরা চাইলেই বাজারে এর চেয়ে কম দামে শেয়ার কিনতে পারে।
বাজারচিত্র: ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউসিবি-র শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল মাত্র ৯.১০ টাকা। দিনভর শেয়ারটি ৯.০০ টাকা থেকে ৯.১০ টাকার মধ্যে হাতবদল হয়েছে।
অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা চাইলেই বর্তমানে পাবলিক মার্কেট থেকে ১০ টাকার চেয়ে কম দামে এই শেয়ার কিনতে পারছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১০ টাকা মূল্যে রাইট শেয়ারের জন্য আবেদন আহ্বান করাকে বিনিয়োগকারীরা এক প্রকার "অর্থহীন ও অবাস্তব" বলে আখ্যায়িত করছেন।
ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা
পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ফোরাম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রধান প্রধান আপত্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অযৌক্তিক বাড়তি দাম: যেখানে মার্কেট প্রাইস ৯ টাকা বা ৯.১০ টাকা, সেখানে কোন যুক্তিতে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী ১০ টাকা দিয়ে রাইট শেয়ারের জন্য আবেদন করবেন—এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে।
বিনিয়োগকারীদের মতে, "কোনো সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কিনতে যাবে না।
পরিচালকদের উপর দায় চাপানোর দাবি: সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, ব্যাংকের যদি মূলধন বাড়ানোর প্রয়োজনই হয়, তবে সেই টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে না কেটে ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের নিজেদের পকেট থেকে দেওয়া উচিত।
লভ্যাংশ নিয়ে অসন্তোষ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকের আর্থিক পারফরম্যান্স এবং কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) না পাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমনিতেই এক ধরনের হতাশা ছিল। তার ওপর এই রাইট শেয়ারের সিদ্ধান্ত তাদের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
মার্কেট থেকে কেনার পরামর্শ: অনেক বিনিয়োগকারী একে অপরকে রাইট শেয়ারের আবেদন না করে, প্রয়োজনে বর্তমান বাজারদর (৯ টাকা) থেকে সরাসরি শেয়ার কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন।
যৌথ ইস্যু ম্যানেজার নিয়ে গভীর সংশয় ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব:এই রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রক্রিয়ায় যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
তবে এখানে মূল সংশয় তৈরি হয়েছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টকে নিয়ে। যেহেতু ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড খোদ ইউসিবি ব্যাংকেরই একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান (Subsidiary), তাই এই প্রক্রিয়ায় তাদের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মূল ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করতে পারবে, তা নিয়ে বাজারে চরম দ্বিধা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের "স্বার্থের দ্বন্দ্ব" (Conflict of Interest) পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিএসইসি-র ভূমিকা:-বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম যখন ফেস ভ্যালুর নিচে থাকে, তখন রাইট শেয়ারের সিদ্ধান্ত সাধারণত সফল হয় না।
কারণ, আন্ডাররাইটার বা সাধারণ বিনিয়োগকারী কেউই বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার নিতে আগ্রহী হন না।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) কীভাবে এই রাইট শেয়ার প্রস্তাবের অনুমোদন দিল, তা নিয়েও বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মাঝে বিস্ময় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক গতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইস্যু ম্যানেজারের কাছে প্রতিবেদকের প্রশ্ন :-
ইউসিবি ব্যাংক যেহেতু আপনাদের মূল কোম্পানি এবং আপনারা তাদেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান, তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আপনাদের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
আপনারা কীভাবে প্রমাণ করবেন যে আপনারা মূল ব্যাংকের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করছেন, এবং আপনাদের এই স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা বাস্তবে কতটুকু সম্ভব?
ইস্যু ম্যানেজারের উত্তর :-
ইউসিবি -এর রাইটস ইস্যুতে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড একক ইস্যু ব্যবস্থাপক নয়। Rupali Investment Limited, যা Rupali Bank PLC-এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যৌথ ইস্যু ব্যবস্থাপক (Joint Issue Manager) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দুইটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের পেশাগত পর্যালোচনা, সমন্বয় এবং কার্যকর চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
রাইটস ইস্যুর আবেদনপত্র সম্পূর্ণরূপে Securities and Exchange Commission (Rights Issue) Rules, 2006 অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। যৌথ ইস্যু ব্যবস্থাপকদ্বয় প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় সকল নথি প্রস্তুত ও দাখিল করেছে এবং সকল নিয়ন্ত্রক পরিপালন (Regulatory Compliance) নিশ্চিত করেছে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিস্তারিত পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই রাইটস ইস্যুর অনুমোদন প্রদান করেছে।
প্রতিবেদক: ইস্যু ম্যানেজারের দাবি অনুযায়ী, UCB Investment Limited এককভাবে নয়, Rupali Investment Limited এর সাথে যৌথভাবে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছে এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
তবে, একজন ইস্যু ম্যানেজারের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ নীতি— যেহেতু UCB Investment ইস্যুকারী ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, তাই এই পরিস্থিতিতে তাদের স্বাধীনতা কীভাবে নিশ্চিত হয়েছে, সে প্রশ্ন বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশ তুলছেন।
শুধুমাত্র যৌথ ইস্যু ম্যানেজার থাকার কথা বললেই সব প্রশ্ন মিটে যায় কি না? তা স্পষ্ট নয়।ইস্যু ম্যানেজারের দাবি, যেহেতু এই রাইট শেয়ার ইস্যুতে UCB ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এককভাবে নয়, রূপালী ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তাই নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়। একজন ইস্যু ম্যানেজারের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকার বিধিমালার মূল নীতি হলো স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং conflict of interest থেকে মুক্ত থেকে কাজ করা।
যদি ইস্যু ম্যানেজার ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হয়, তাহলে সেই স্বাধীনতা বাস্তবে কীভাবে নিশ্চিত হয়েছে প্রশ্ন ওঠে। শুধুমাত্র আরেকটি যৌথ ইস্যু ম্যানেজার যুক্ত থাকলেই কি সম্ভাব্য (conflict of interest)স্বার্থের সংঘাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হয়ে যায়? প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান পাওয়া যায়নি যেখানে বলা হয়েছে যৌথ ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ দিলেই সম্ভাব্য conflict of interest স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
তাই ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের ভূমিকা, তাদের স্বাধীনতা এবং বিধিমালার চেতনার সঙ্গে এই নিয়োগের সামঞ্জস্য কতটা, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
রাইট শেয়ার ইস্যুতে যৌথ ব্যবস্থাপক হিসেবে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভূমিকা এবং বিএসইসির অনুমোদন প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বার্থের সংঘাত ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি, ফলে নীতিগত দিক থেকে বিষয়টি আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশ।
পুঁজিবাজারের বর্তমান বাস্তবতায় ইউসিবি-র এই রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্তটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনোভাবেই আরামদায়ক বা লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে না।
শেয়ারের দরপতন এবং যৌথ ইস্যু ম্যানেজারের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে ইউসিবি-র শেয়ারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে প্রতিবেদকের প্রশ্ন :-
ইউসিবি ব্যাংকের রাইট শেয়ার ইস্যুতে ইউসিবি ইনভেসমেন্ট এবং রূপালী ইনভেস্টমেন্ট এর এই যৌথ ব্যবস্থাপনায় রূপালী ইনভেস্টমেন্টের প্রকৃত ভূমিকা কতটুকু? কমিশন কি এই (Conflict of Interest) স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছে?ফেস ভ্যালুর নিচে শেয়ারটির লেনদেন হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা কি ১০ টাকায় নিবে?
নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র :মোঃ আবুল কালাম জানান - এটা একটা রাইট ইস্যু, এটা এমন না বিশাল প্রিমিয়াম বা ইত্যাদি দিয়ে হয়ে যাচ্ছে । আইনি কোনো বাধা না থাকায় কমিশন অনুমোদন দিয়েছে ।
তাছাড়া বিনিয়োগকারীরা চাইলে আবেদন করতে পারেন, আর আন্ডার-সাবস্ক্রিপশন হলে আন্ডাররাইটাররা শেয়ার গ্রহণের গ্যারান্টি দিয়েছে তাই কমিশন অনুমোদন দিয়েছে ।
প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আজাদ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে Conflict of nterest এর নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেননি।
সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (Conflict of nterest) এবং যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের স্বাধীনতা কীভাবে নিশ্চিত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
যেমন—কমিশন আইনি বাধা না থাকা ও আন্ডাররাইটারদের নিশ্চয়তাকে অনুমোদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে বাজারদর ফেস ভ্যালুর নিচে থাকা অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিধিমালায় স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর নীতির আলোকে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে ভূমিকা নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী ইস্যু ম্যানেজারকে স্বাধীনভাবে যথাযথ সতর্কতা (Due Diligence) নিশ্চিত করতে হয়।
কিন্তু সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বাস্তবে কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশ।
তাঁদের মত, এ ধরনের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইস্যু ম্যানেজার জানান:স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) যদি কোনো ব্যাংকের নিজস্ব সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক সেই ব্যাংকের শেয়ার বা রাইট শেয়ার ইস্যুর দায়িত্বে থাকে, তবে সেখানে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ইউসিবি ব্যাংকের এই রাইট ইস্যুর ক্ষেত্রে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (যা ইউসিবি ব্যাংকের একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান) শুরু থেকেই মূল ভূমিকায় রয়েছে, যা আইনের এই মৌলিক চেতনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং পুঁজিবাজারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বিএসইসি-র উচিত এই পুরো প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি এবং স্বচ্ছতা পুনরায় খতিয়ে দেখে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া।
দ্বিতীয় পর্ব আসছে...........
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/