প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ফলে শিরোপা লড়াইয়ের দ্বিতীয় দল নির্ধারণে আজ মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই দ্বৈরথকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। শক্তিশালী ইংলিশ ফুটবলের বিপরীতে নান্দনিক আর্জেন্টাইন ফুটবল—দুই ভিন্ন ধারার লড়াইয়ে আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচের অপেক্ষায় সমর্থকরা।
আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন হ্যারি কেইন। সঙ্গে থাকবেন জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও অ্যান্থনি গর্ডনের মতো তারকারা।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
তবে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হয়ে আছে। মেক্সিকোয় দিয়েগো মারাদোনার দুটি গোল—একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত এবং অন্যটি ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃত—আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দিয়েছিল। সেই ম্যাচ আজও দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমেওনেকে লাথি মারার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহাম। পরে টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে বেকহামের একমাত্র গোলে ইংল্যান্ড প্রতিশোধ নেয়।
১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ইংল্যান্ড। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছ থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে ইংলিশরা।
অন্যদিকে ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সেই রেকর্ড ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে।
এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৯ বছর বয়সে পা দেওয়া এই তারকা বিশ্বকাপে আগে কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। ফলে ইংলিশদের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স নিয়েও আগ্রহ রয়েছে সমর্থকদের।
নরওয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেছিলেন, “সেমিফাইনাল ম্যাচটা শুধুই একটি সেমিফাইনাল নয়, এখানে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। যা ভেঙেচুরে নতুন ইতিহাস গড়ার মঞ্চ হতে পারে।”
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, দলকে শতভাগ প্রস্তুত রাখতে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে আলাদা কাজ করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
সবশেষে, মাঠের লড়াইটাই নির্ধারণ করবে কে উঠবে ফাইনালে। মেসির জাদু, নাকি ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ—কোনটি শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/