জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা।
পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ বাড়াতে আয়োজিত এ মেলায় ২০ টি স্টলে দেশীয়-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারার সমারোহ ঘটেছে।
শনিবার সকাল ১০টায় জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে মেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান, নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমির মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন বিভাগের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্বোধনের পর থেকেই মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই মেলায় এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সংগ্রহ করেন।
বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, লিচু, মাল্টা, জলপাইসহ বিভিন্ন ফলদ গাছের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধক ও ঔষধি গাছের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। বিক্রেতারা জানান, পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা সবুজায়নের আগ্রহও আগের চেয়ে বেড়েছে।
মেলায় আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ আবাস গড়ে তোলে। তাই প্রতিবছরই তারা কয়েকটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে নার্সারি মালিকরা বলেন, সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের মেলা আয়োজন হলে মানুষ সহজেই উন্নতমানের চারা সংগ্রহ করতে পারেন এবং বৃক্ষরোপণে আরও উৎসাহিত হন।
নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুর ইসলাম বলেন, বৃক্ষমেলার উদ্দেশ্য কেবল গাছ বিক্রি নয়; বরং মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান—সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে বৃক্ষরোপণকে।
প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে দেশ আরও সবুজ হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১০ দিন প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও নার্সারি মালিকরা এতে অংশ নিয়েছেন।
মেলা চলাকালে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গাছের পরিচর্যা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।
সবুজে ঘেরা একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হওয়া এ বৃক্ষমেলা থেকে গাছ কিনে শুধু বাড়ির আঙিনা নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের প্রাঙ্গণ এবং খালি জায়গায়ও বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসবেন সাধারণ মানুষ—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/