ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন আরও তীব্র, ছড়িয়ে পড়ছে দিল্লি থেকে নিউইয়র্ক

আপডেট: July 22, 2026 |
print news

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই বিক্ষোভস্থলে শিক্ষার্থীরা সমাগম বাড়তে থাকে। এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক, সান হোসে, লন্ডন ও ডাবলিনেও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব এবার দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা এসব কর্মসূচির আয়োজন করেন।

এর আগে সোমবার সংসদ অভিমুখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এর মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং শিবসেনা (উদ্ধব) নেতারা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।

আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি অভিযানের জন্য সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা এবং সংসদে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা।

এদিকে, ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক। এর আগে কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘সরকার যতই চেষ্টা করুক, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। আন্দোলনকে সরকারের জন্য ‘আউট অব সিলেবাস’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’’

অন্যদিকে, সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর