
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো: আবদুল মালেক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: আল-আমিন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন বদলি হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ মহসীন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাতজোড় করে বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না।’
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো: আ: কুদদুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাত শিক্ষককে বদলির আদেশ দেয়া হয়। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে।
বদলি আদেশ অনুযায়ী, উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো: আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন না। তার ছেলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো: আবদুল মালেক কনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র শিক্ষকরা দায়িত্ব না নেয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। আর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।
এদিকে গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কলেজের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি কলেজের শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সরকারের ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
তবে বদলি হওয়া শিক্ষকদের দাবি, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কলেজ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের দাবি, শুধু বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণেই তাদের বদলি করা হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর উদ্যোগে ডিঙি নৌকা ও ভ্যানগাড়ির ব্যবস্থা করে ‘বিবেক’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেন।
সাত শিক্ষককে একসাথে বদলির ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/