নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন, তবে তিনি এখনও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া ডি মারিয়া চান, মেসি যেন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন
টিএনটি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, লিও যতদিন ইচ্ছা ততদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাক। আমার মনে হয়, সে আরও অনেক বছর খেলতে পারবে।'
রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির সাবেক এই উইঙ্গারের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে বয়স তার জন্য কোনো বাধা নয়।
ডি মারিয়া বলেন, '৩৯ বছর বয়সেও সে দেখিয়ে দিয়েছে যে সে শুধু বিশ্বের অন্যতম সেরা নয়, বরং ইতিহাসেরই সেরা। তার সামর্থ্যের কোনো সীমা নেই।'
ফাইনালে ১০৬তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখার পর তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস।
এরপর সমতায় ফেরার আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আলবিসেলেস্তেদের।
তবে এই পরাজয় মেসির ব্যক্তিগত অবদানকে ম্লান করতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি করেছেন ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। লিওনেল স্কালোনির দলের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন তিনি।
তার সৃজনশীলতা ও দুর্দান্ত ফিনিশিং আর্জেন্টিনাকে কঠিন নকআউট পর্ব পেরিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয়কে ডি মারিয়া এমন এক মুহূর্ত হিসেবে দেখেন, যা ফাইনালের ফলকেও ছাপিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, 'ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পুরো আর্জেন্টিনার জন্য অসাধারণ আনন্দের ছিল। সেটা স্পষ্ট ছিল এবং আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রতিটি ম্যাচেই আমি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু খেলোয়াড়রা নিজেদের ভেতর থেকেই শক্তি খুঁজে নিয়েছে এবং জয় তুলে এনেছে। সব সময় ফাইনাল জেতা যায় না, কখনও ভাগ্যও সঙ্গে থাকে না। কিন্তু তারা জাতীয় দলের সম্মান অনেক উঁচুতে তুলে ধরেছে।'
ডি মারিয়ার মতে, ইংল্যান্ডকে হারানোর মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনা দেশের মানুষকে এমন এক আনন্দ উপহার দিয়েছে, যা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার ভাষায়, 'আমার কাছে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে সেই দিনই, যেদিন আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। তারা পুরো দেশকে এমন আনন্দ দিয়েছে যা, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।'
এদিকে, ডি মারিয়া কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও দায়িত্বে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বকাপ শেষে স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে, যদিও আর্জেন্টিনার হাতে এখনও প্রতিভাবান একদল তরুণ ফুটবলার রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে আরও শিরোপার জন্য লড়তে পারে।
তিনি বলেন, 'আমি আশা করি, সবার মঙ্গলের জন্য স্কালোনি দায়িত্বে থাকবেন। কারণ সামনে দারুণ এক প্রজন্ম অপেক্ষা করছে, যারা গৌরব অর্জন করতে চায়। শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্যই তার নিজের, কিন্তু আমি চাই তিনি থাকুন।'
ফাইনালের পর থেকে মেসি জনসমক্ষে খুব একটা আসেননি এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি। আপাতত তিনি ইন্টার মিয়ামিতে ফিরে এমএলএস মৌসুমে মনোযোগ দেবেন।
আরেকটি বিশ্বকাপে তাকে দেখা বাস্তবসম্মত না হলেও, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা হতে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় লক্ষ্য। আর ডি মারিয়ার বার্তা একটাই, মেসি যখন এখনও এমন উচ্চমানের ফুটবল খেলছেন, তখন তার ক্যারিয়ারের শেষের সময়সীমা অন্য কারও ঠিক করে দেওয়া উচিত নয়।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/