ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গতকাল ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার ৭ নং চিলারং ইউনিয়নের চিলারং গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন (৫৬)। তিনি ঐ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। গত সোমবার সকালে তিনি তাঁর অসুস্থ বড় মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে দিনাজপুরে যান। একই সময় কিশোরীর মাও কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে থাকায় ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী বাড়িতে একা ছিল।
বেলা দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন ওই বাড়িতে যান এবং ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কিশোরীর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান।
কিশোরী ফটোকপি দিলে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জোরপূর্বক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
এ সময় কিশোরী আত্মরক্ষার্থে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে এবং সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করে।
কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুকৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে বিকেলে দিনাজপুর থেকে বাবা বাড়ি ফিরে মেয়ের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও শারীরিক অসুস্থতা দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তা না মেনে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








