যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও অন্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণে বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে। গাজা আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।’
হামাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে হামাস ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র শাখাগুলোর সম্মতিসূচক একটি নথি আল জাজিরার হাতে এসেছে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল–জাজিরাকে বলেছেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না।
ট্রাম্প বলেছেন, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের এই প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এ যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। চুক্তির পর থেকে তারা ১ হাজার ২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আরও এলাকা দখলে নিয়েছে এবং গাজায় মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ আরও ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ শেষ হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর সেখানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা হবে। এই বাহিনী নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এই সমঝোতার আওতায় গাজার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে যাবে, যারা নিজেদের জনগণের সেবা করবে।’
গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাসের নেতারা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে তাঁরা মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। গতকাল হামাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল–জাজিরাকে বলেন, আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হচ্ছে।
প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের
গত ৬ জুলাই গাজায় নিজেদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় হামাস। এর মধ্য দিয়ে উপত্যকাটিতে প্রায় দুই দশকের হামাসের শাসনের অবসান ঘটে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল–জাজিরাকে বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
গাজি হামাদ আরও বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একটি জাতীয় কমিটি এ কাজের নেতৃত্ব দেবে।
চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা ‘জটিল’ ছিল উল্লেখ করে গাজি হামাদ বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্য থেকে হামাস সরে আসেনি।
ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করা হবে
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে হামাস ও অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা হবে। এরপর আরও ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
ফিশার বলেন, ‘ফিলিস্তিনি পুলিশ একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। এই বাহিনীতে কোন কোন দেশ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, এতে ইন্দোনেশিয়া এবং সম্ভবত তুরস্কও থাকতে পারে। অবশ্য বিষয়টি [তুরস্কের থাকা] ইসরায়েলের পছন্দ নাও হতে পারে।’
আল–জাজিরার হাতে আসা সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নসূচি ১৪ দিনের মধ্যে তৈরি করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশন সম্মত হলে এ সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
ফিশার বলেন, সব পক্ষকে চুক্তিতে সইয়ের পর্যায়ে আনতে এখনো কিছু বাধা রয়েছে। তবে হামাসকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই চুক্তিতে সম্মত না হলে আর্থিকভাবে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ফিশারের ভাষ্য, ‘এই চুক্তি মেনে নিতে হামাসের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ছিল—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বোর্ড অব পিসে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েলের ব্যাপক সমালোচনা ছিল। কিন্তু দেশ দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, এই সমঝোতা তার প্রমাণ।
ওই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও হামাসের বাইরে একটি বিকল্প সামনে এসেছে। এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক সরকার হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণে কাজ করা।’
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/