অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু হাম সংক্রমণের ঝুঁকিতে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট: August 1, 2026 |
fd 10
print news

অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু হাম সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

হাম সংক্রমণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে।”

শনিবার রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

প্রথম চার-পাঁচ মাস মায়ের দুধ একটি শিশুর বৃদ্ধির মূল উৎস, এ কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যা প্রোটিনের সর্বোচ্চ ভান্ডার।

“অথচ বর্তমানে অস্ত্রোপচারের মধ্যে প্রসবের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য হল- ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন এবং মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ও গুরুত্ব ছিল। আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে।

“আধুনিক হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।”

সেই সঙ্গে শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন।

এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

বিগত দিনে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “গত এক বছরে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মতো কার্যকর কোনো ধরনের সভা-সেমিনার করা হয়নি।

“এখন থেকে এক বছর কর্মসূচি তৈরি করে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় গিয়ে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক অডিটোরিয়ামে নিয়ে মাতৃদুগ্ধ পানের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে এবং তা পালন বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে দেশের মানুষ সচেতন হবে এবং নিরাপদে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠতে সহযোগিতা করবে। সেইসঙ্গে কমে আসবে শিশু মৃত্যুর হার।”

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক জিন্নাত রেহানা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস আলী।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর