ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত : সেতুমন্ত্রী

আপডেট: August 2, 2026 |
fd 23
print news

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীপথে আবারও যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে নদীদূষণ, নাব্যতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রী আকর্ষণের মতো বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোকে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, পর্যটনবান্ধব জলপথ হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে এমন একটি রুট বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে, যেখানে গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গি, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট ও বসিলা ঘুরে আবার গাবতলীতে ফেরা যাবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে নদীর পরিবেশ এমন যে অনেক জায়গায় দুর্গন্ধ ও আবর্জনার কারণে মানুষ নৌপথে ভ্রমণে আগ্রহী হয় না। নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে মনোরম পরিবেশ তৈরি করা গেলে মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদনের জন্যও ওয়াটার বাস ব্যবহার করবে বলে সরকার আশা করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হাতিরঝিলে ওয়াটার বাস সফলভাবে পরিচালিত হলেও সেখানে দূরত্ব কম, যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলে তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু ঢাকার চারপাশের দীর্ঘ নদীপথে একই মডেল পুরোপুরি কার্যকর হবে না। তাই যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটনকেও গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে কয়েকটি সেতুও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে টঙ্গির রেলসেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচলের পর্যাপ্ত উচ্চতা নেই। সড়ক সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই ওই স্থানে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে সেতু পার হয়ে অপর পাশে অপেক্ষমাণ ওয়াটার বাসে ওঠার বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এখনো এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্বের আওতায় প্রয়োজনীয় কাজ করবে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে।

তিনি জানান, বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আবার বৈঠক হবে। তখন বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে ঢাকার চারপাশের নদীপথে আধুনিক ও আকর্ষণীয় ওয়াটার বাস সেবা চালু করা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর