যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট: August 3, 2026 |
fd 34
print news

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘সর্বোচ্চ মর্যাদা’ দেয়। তিনি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থা ও সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন, যা এখন একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের কাছে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সফর সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় দেখে। এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের গভীরতার পরিচায়ক, যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর মার্কিন দূতের মন্তব্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ওয়াশিংটনের আস্থা এবং ঢাকার সাথে সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।’

হুমায়ুন কবির জানান, ‘রাষ্ট্রদূত গরের এ সফর ছিল পরিচিতিমূলক। এ সফরে দুই পক্ষ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে।’

তার মতে, আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আগামী এক দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন এবং সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী।

হুমায়ুন কবির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরো শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার নীতি অনুসরণ করছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তাদের কাছে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চমূল্যসম্পন্ন’ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক জনসমর্থন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরো শক্তিশালী করেছে।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে কূটনীতি, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, রিয়াদসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীতে বাংলাদেশের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি পাচ্ছে, একইসাথে সব অংশীদারের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নেতৃত্ব, বিনয় এবং সহজে যোগাযোগযোগ্য ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। এর ফলে বিদেশী সরকার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো বেড়েছে।’

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা ও রিয়াদ ঐতিহ্যগত ধর্মীয় সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে এখন আরো বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সৌদি আরবকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়েও সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এ সহযোগিতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।

চীনের বিনিয়োগ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো চীনা কোম্পানিকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চীন থেকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকেও অধিক বিনিয়োগ আশা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্র কোনো সংঘাতের জায়গা হবে না। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব এবং সব উন্নয়ন অংশীদারের সাথে সমানভাবে কাজ করব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে আরো অগ্রগতি হলে সরকার গণমাধ্যমকে জানাবে।

সূত্র : বাসস

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর