মা-ভাইকে হত্যার আগে চ্যাটজিপিটিতে আলোচনা, কিশোর গ্রেফতার

আপডেট: August 13, 2026 |
fd 125
print news

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে মা ও ছোট ভাইকে হত্যার পর মায়ের গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। যদিও তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ওই কিশোর নিজের পরিবারের সদস্যদের হত্যাকে ঘিরে কাল্পনিক রহস্য গল্পের বিষয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনা করছিল।

গ্রেফতার ঐ কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কিশোর ম্যাসাচুসেটসের অ্যাক্টন-বক্সবোরো রিজিওনাল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার অ্যাক্টনের মার্থা লেন এলাকায় নিজেদের বাড়িতে তার ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন ও ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ নিহত হন। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় ও অ্যাক্টন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরের পর কোনো একসময় বাড়ির ভেতর মা ও ভাইকে গুরুতরভাবে আঘাত করা হয়। পরে অর্জুন গ্যারেজ থেকে তার মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।

একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর পূর্বনির্ধারিত সময়ে ওই বাড়িতে একজন গৃহশিক্ষক আসেন। কিন্তু ভেতরে ঢুকতে না পেরে তিনি অর্জুনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হলে অ্যাক্টন পুলিশকে খবর দেন এবং বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার অনুরোধ করেন।

অর্জুনের বাবা সেদিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। আর সিদ্ধার্থকে সর্বশেষ দুপুর ১২টার দিকে দেখা গিয়েছিল। পরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে সুধা ও সিদ্ধার্থকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। সুধার মরদেহ বেসমেন্টে এবং সিদ্ধার্থের মরদেহ প্রথম তলায় পাওয়া যায়। দুজনের শরীরেই দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ধরন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি প্রধান চিকিৎসকের কার্যালয়। কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তাধীন।

এ ঘটনায় অর্জুনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, পরিবারের সদস্যের ওপর হামলা ও গুরুতর আঘাত, অনুমতি ছাড়া গাড়ি ব্যবহার এবং মোটরযান চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। বোস্টন থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরের অ্যাক্টনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর অর্জুনের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। শুরুতে তার সন্ধান না পেলেও বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড শহরের একটি পার্কিং লটে অন্য একটি অ্যালার্মের ঘটনায় পুলিশ পৌঁছালে সেখানে মায়ের গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। গাড়ির ভেতর থেকেই অর্জুনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের সংঘর্ষ হয়নি।

তদন্তের বরাত দিয়ে মিডলসেক্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্জুনের আচরণে উদ্বেগজনক কিছু বিষয় দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে পরিবারকে হত্যার মতো কাল্পনিক ঘটনা নিয়ে ইন্টারনেট ও চ্যাটজিপিটিতে অনুসন্ধান এবং আলোচনা করার বিষয়টিও রয়েছে।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, অর্জুন চ্যাটজিপিটিকে একটি রহস্য উপন্যাস তৈরিতে সহায়তা করতে বলেছিল। এ সময় সে বিভিন্ন প্রশ্ন করার পাশাপাশি গল্পের চরিত্রও তৈরি করেছিল। তবে এসব কথোপকথন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রথমে অর্জুনকে কিশোর আদালতে হাজির করা হবে। তবে হত্যা মামলার বিচার করার এখতিয়ার কিশোর আদালতের না থাকায় পরবর্তী সময়ে কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হামলার অভিযোগের আনুষ্ঠানিক শুনানি হবে।

তথ্য সূত্র- ইয়াহু নিউজ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর