ফাহিম আহমদ: সিলেট প্রতিনিধি: নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন নিহতদের ছবি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ নগরীর মিতালি আবাসিক এলাকায় কাজের মেয়েসহ এম এ সাত্তার দম্পতি হত্যাকাণ্ডে বিচার চেয়েছেন নিহতদের চার সন্তানরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় নিজ বাসভবনে মিতালি নিকুঞ্জু ১১১ নং বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এই জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির সন্তান আরিফ ইফতেখার, তাহমিনা সাত্তার এনি, সেলিনা সুলতানা শিখা এবং তারানা সুলতানা শিমু উপস্থিত ছিলেন।
নিহত দম্পতির আমেরিকা প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
তারা জানিয়েছেন, হত্যাকান্ডে তাদের বাবা-মা এবং পরিবারের একজন ছোট গৃহকর্মীকে হারিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড তাঁদের পরিবারকে ভেঙে ফেলেছে। তারা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই বিয়োগান্তক ঘটনা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, আমরা চারজনই প্রবাসে বসবাস করি। কিন্তু আমাদের জন্মভূমি, আমাদের শিকড় এবং সবচেয়ে আপন মানুষগুলো ছিলেন সিলেটেই। তিনজনকে একসাথে হারানোর এই দুর্ভোগ্য প্রতিটি মুহূর্তে পরিবারকে তাড়িত করছে।
প্রিয়জনদের হারানোর অপূরণীয় ক্ষতি এবং পরিবারের ছোট গৃহকর্মী মেয়েটির মৃত্যুও তাঁদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। তবুও পরিবার রাষ্ট্রের ন্যায়ব্যবস্থায় বিশ্বাসী।
তারা বিশ্বাস করেন, দেশে আইন আছে, প্রশাসন আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। পরিবার থেকে ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একটি মামলা করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তারা পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন, তবে সত্য উদঘাটনের জন্য জোরালো দাবি জানান।
নিহতদের সন্তানরা চারটি দাবি উপস্থাপন করেছেন, প্রথমত, তারা চান ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, তদন্ত সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখতে হবে। আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, কোনো অপরাধী যেন প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে না যেতে পারে।
পরিবার সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যারা এই সংকটে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকরা তাঁদের সমর্থন করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন। বিশেষভাবে তারা সাংবাদিক সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং অনুরোধ করেন যে, ভবিষ্যতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে অবহিত করা হোক।
বিশেষ করে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন- সমস্ত সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্যে তারা অনুরোধ করেন, যাতে নিহত ব্যক্তিদের কোনো ছবি সংবাদ, অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ না করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বেদনাদায়ক বিষয়, তারা বিশ্বাস করেন- মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার জায়গা থেকে মিডিয়া এই অনুরোধ বিবেচনা করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকে না। সময় লাগতে পারে। কিন্তু সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে (১৫) হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের ওইদিনই পুলিশ বাবুল মিয়াকে আটক করে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তার এজাহারে গ্রেফতার বাবুল মিয়ার নাম নেই। অবশ্য অজ্ঞাত হিসেবে মামলায় বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শোনানী শেষে বিচারক ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/