নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরিতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।
অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমের মাধ্যমে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৯টি ব্যাচে মোট ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
নির্ধারিত প্রশিক্ষণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করেছে বাপার এ কার্যক্রম।
শুধু প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এ উদ্যোগ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দক্ষতা যাচাইয়ে পরিচালিত কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টে অংশ নিয়েছেন ৩০ হাজার ৮৬০ জন।
এর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জন, অর্থাৎ ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮০৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
বাপা সূত্রে জানা যায়, দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কর্মোপযোগী জনবল তৈরিই ইবিটি কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ ও কর্মপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন কারিগরি ও কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অনেকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেকিং, প্যাকেজিং, বিক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্পখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।
নারীর অংশগ্রহণ ৫৬.৬৬ শতাংশ বাপার ইবিটি কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। মোট প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৬ হাজার ৯৬ জন নারী, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
পাশাপাশি ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বেকিংয়ের মতো খাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছেন।
মূল্যায়নে সাফল্য ৯৩.৫৪ শতাংশ প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৩০ হাজার ৮৬০ জনের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জন কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত হওয়ায় প্রশিক্ষণের কার্যকারিতার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, “৪৬ হাজারের বেশি প্রশিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করানো এবং মূল্যায়নে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশকে কম্পিটেন্ট হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক সাফল্য।
এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দক্ষ জনবলকে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয়মুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা।”
তিনি বলেন, দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশে দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বাপা সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে ইবিটি কার্যক্রম দেশের অ্যাগ্রো-ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।
একই সঙ্গে নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/