প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সমস্যা পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ছাড়া জ্বালানিসংকট পুঁজি করে একটি দল দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে। স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সমস্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ সময় দেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকটের জন্য ভুক্তভোগীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপতথ্য ছড়িয়ে কেউ কোনো অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারের আমলে একটি দল তাদের মধ্যে গুপ্ত অবস্থায় ছিল। তারাই এখন বাইরে এসে নিজ দলের পরিচয় দিচ্ছে। এমনও হতে পারে, গুপ্তদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে থেকে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যারা গুপ্ত তারাই স্বৈরাচারকে সামনে আনার কাজ করছেন। একজন আরেকজনকে গুপ্ত রাখার চেষ্টা করছেন। কে কাকে গুপ্ত রাখতে চাইছে তা জনসমক্ষে উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাজপথে ছিল, গুপ্ত অবস্থায় কিছু করেনি। বিএনপি সবসময় বুক চিতিয়ে মানুষের দাবি নিয়ে রাজপথে সোচ্চার থেকেছে। গুপ্তরাই ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। চব্বিশের আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের জনগণের। দেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন সফল করেছিল বিএনপি।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, এ গুপ্ত বাহিনী ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময় একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬-সহ গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও বিভিন্নভাবে তারা একে অন্যকে আড়াল করেছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগের স্বৈরাচারী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এসব সমস্যাকে পুঁজি করে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা অনুসরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- প্রত্যেকেরই নিজের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার একটি ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এ ভঙ্গুর অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে সমস্যার বোঝা সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান সমস্যাগুলোর মধ্যে জ্বালানিসংকট সবচেয়ে বড়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে দেশের বহু মানুষ ও শিল্পকারখানার মালিক কষ্টে আছেন উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে অতীত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাকে এ সরকার শুধু ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখাতে চায় না। সরকার বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চায় এবং এমন পদক্ষেপ নিতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে মানুষ আবার একই ধরনের জ্বালানিসংকটে আর না পড়ে। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়লেও জনগণের ওপর চাপ কম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়াতে সরকার বাধ্য হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলীয় চেয়ারম্যান বলেন, শুধু দলীয় পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। সবাইকে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ কর্মী হিসেবেই থাকবেন। তবে কাজের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজেকে একজন ‘সাচ্চা জাতীয়তাবাদী কর্মী’ হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পরিবেশ রক্ষার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার আহ্বান মির্জা আব্বাসের : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সব ভালো কাজগুলো কিছু খারাপ লোকের মন্দ কাজে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই- দলের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আরও হবে। আপনার বিরুদ্ধেও অনেক ষড়যন্ত্র হবে। আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন। নিঃসন্দেহে আপনি অনেক উদার, তবে সবসময় সব জায়গায় এমন থাকা যাবে না। বহু কর্মী আছে, নেতা আছে যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, কিন্তু বাইরে গিয়ে সেভাবে কথা বলেন না। এ সময় কখনো একাকী জিজ্ঞেস করা হলে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলবেন বলেও জানান তিনি।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/