বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘হাসিনা নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য স্কুলের বাচ্চা-শিশুদেরও হত্যা করেছে। দেশের প্রত্যেকটি জায়গায় তার গড়ে তোলা পুলিশ বাহিনী, র্যাব রক্ত ঝরিয়েছে।’
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শহীদ মো: হারুনুর রশিদের পরিবারকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র দেয়া বাড়ি উদ্বোধন ও স্বজনদের নিকট চাবি হস্তান্তর করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা এক দুঃসময় অতিক্রম করেছি। আমরা এক অন্ধকার সময় অতিক্রম করেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যারা বিরোধী মত পোষণ করতেন, বিরোধী দল করতেন তাদের বাঁচার অধিকার ছিল না। সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার ছিল না। বাড়িতে ঘুমানোর অধিকার ছিল না। কে কখন গুম-খুনের শিকার হত এমন একটা সময় পার করেছি আমরা। এ রকম এক ভয়াবহ হিংস্র রাজত্বের মধ্যে পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। কারো লাশ জমিতে, কারো লাশ খালে পড়েছিল হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের আরেক শিকার এ এলাকার শহীদ হারুন। তারও বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিল। সে দলের একজন ছোট্ট কর্মী। তার স্বপ্ন ছিল, তার আশা ছিল সেও বাঁচবে। তার ইচ্ছা ছিল সে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু তাকে তারা বাঁচতে দেয়নি। শুধুমাত্র একটা আদর্শের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। হারুন টাকা পাচার করেনি। হারুন মেট্রোরেলের টাকা আত্মসাৎ করেনি। সে কথা বলার স্বাধীনতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে।’
এ সময় অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আপনাদের পাশে আমি ছিলাম এবং থাকব। আপনাদের জন্য প্রয়োজনে লড়াই করে যাবো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ক্ষমতায় আছি। চোর, গুন্ডা, বদমায়েশ, ডাকাত এদের ত্যাগ করে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলব। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি আমরা সুন্দর সমাজ উপহার দেবো।’
মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি কর্মী বান্ধব দল। বিগত ফ্যাসিবাদ সময়ে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ হারুনের পাশে আমরা শুরু থেকে ছিলাম। আমি এসেছি এ বাড়িতে। বিএনপি সবসময় শহীদদের পরিবারের পাশে থাকবে।’
রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘হাসিনা হারুনদের মতো অনেককে হত্যা করে ভেবেছিল কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু তিনি কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। আল্লাহর বিচার, হাসিনার ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়েছে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের পরিচালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, নরসিংদী-৫ আসনে সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইন্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক বেলাল আহমেদ, কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জালাল উদ্দীন মজুমদার ও মশিউর রহমান বিপ্লব।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, সদর উপজেলা সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার, সদস্য সচিব নইম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শহীদ হারুনের স্ত্রী বিবি জোহরার নিকট চাবি হস্তান্তর করা হয়। এসময় শহীদ হারুনের বড় মেয়ে মাজেদা আক্তার ও ছেলে তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। চাবি হস্তান্তর শেষে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর কবর জিয়ারত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনী শহরের এসএসকে সড়কে যুবদলের মিছিলে পুলিশের গুলিতে হারুন নিহত হন।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/