ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও প্রাথমিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। সম্প্রতি সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এতে ‘বাড়তি ফি নির্ধারণ’ দাবি তুলে সমালোচনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সমালোচনার মুখে কিছু বক্তব্য শিথিল করে উপ-কমিটি। তাদের ভাষ্য, ‘পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ধরা যাবে না। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় শিথিলযোগ্য।’
এদিকে রেজিষ্ট্রেশন উপকমিটি সূত্র বলছে, সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান গণমাধ্যমে জানান, চলতি বছরের ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবর্তন ফি ৫০০০ হাজার এবং সনদ ফি ১০০০ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সম্ভাব্য প্রাথমিক ফি নির্ধারণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা ও বেকার শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে এমন ফি নির্ধারণের প্রতিবাদ জানান তারা।
সমালোচনা করে প্রাক্তনরা বলেন, অনার্স ও মাস্টার্সের কাগজপত্র তুলতে আগে ৫ হাজার টাকা খরচ করার পর আবার সমাবর্তনে অংশ নিতে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা পুঁজি ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই না।
ফি নির্ধারণের যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিগত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিজনেস প্ল্যান হয়তো বা এই ৫ম সমাবর্তন।
একই সঙ্গে তিনি নিবন্ধন ও সনদ ফির খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ফি-র তারতম্য তুলে ধরে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
এছাড়াও ৪র্থ সমাবর্তনের তুলনায় এবার নিবন্ধন ফি এক লাফে দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। ৪র্থ সমাবর্তনের মূল নিবন্ধন বা সমাবর্তন ফি ছিল ৩,০০০ টাকা।
তবে যে-সব শিক্ষার্থী দুইয়ের অধিক সনদের (Certificate) জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের অতিরিক্ত ফিসহ সর্বমোট ৪,০০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে যেখানে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন ফি বাবদ সর্বমোট ৩৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে ইবিতে প্রায় দ্বিগুণ ফি ধার্য করায় শিক্ষার্থীরা একে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখছেন।
অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করলেও ইবির ৫ম সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি তুলনামূলক বেশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ২৫০০ টাকা এবং উভয় ডিগ্রি একসঙ্গে ৪০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৩০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পিএইচডি/এমফিল ইত্যাদি ডিগ্রির ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ স্নাতক পর্যায়ে ১৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০০০ টাকা এবং পিএইচডি পর্যায়ে ৪০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৩০০০ টাকা এবং দুটি প্রোগ্রামের ডিগ্রি একই সঙ্গে ৪৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০০ টাকা।
তবে সম্প্রতি ফি পুনর্বিবেচনায় আনার দাবি তুলছে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত যৌক্তিক মনে করছেন তাঁরা।
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, বাজেট কমিটির মিটিং হলে আমরা বলতে পারব মোট কত টাকা লাগবে। সম্ভবত সার্টিফিকেটের ফি-টা কমানো হবে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ইউজিসি থেকে ১০/১২ লাখ টাকার বেশি না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও স্পনসরের উপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়টি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্পনসরও পাওয়া যায় না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে একটা খসড়া খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফি কমে গেলে আবার অনুষ্ঠানের গুণগত মান কবে যাবে। অনুষ্ঠানটা বৃহৎ পরিসরে হবে, যেখানে প্রায় ১০০০০ শিক্ষার্থী অংশ নিবেন।
তাই বিশ্ববিদ্যালয় সামর্থ্য অনুযায়ী ফি অবশ্যই কম রাখার চেষ্টা করবে। এছাড়া, ক্যম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন ফি সম্ভবত সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা লেগে যায়। এই বিষয়ে কিছু করা যায় কিনা আমি কথা বলে দেখব। বাজেট কমিটির মিটিং হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
সমাবর্তনের বাজেট ও আনুমানিক খরচ নির্ধারণ নিয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী জানান, সমাবর্তনের জন্য কত অর্থ ব্যয় হবে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আমরা আপাতত দিতে পারছি না।
সমাবর্তনে যে কমিটি গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে তারা তাদের কতটুকু বাজেট প্রয়োজন সেটা ৪ তারিখে উপস্থাপন করবে। তারপর আমরা পূর্ণাঙ্গ একটা হিসাব দিতে পারব।
বাজেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বের বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের দেওয়া সার্টিফিকেটের গুণগত মানের উপর নির্ভর করে সেখানে বাজেট কেমন হবে।
আপাতত খসড়া বাজেট ৫৮ লক্ষ টাকা, পরর্বতীতে এটা আমরা বিবেচনা করে দেখব। আবার প্যান্ডেলের জন্য খসড়া বাজেট ৮০ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। এগুলো সবই আমাদের খসড়া হিসাব।
দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কী ভাবছে প্রশাসন, তা জানতে চাইলে আবাসন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক'
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/