জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছুটির পর প্রাইভেট বা কোচিং করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলায় সেই নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পরও শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের ফ্যান ও লাইটের মতো সরকারি সম্পদও।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গত বছরের (২০২৫ সালের ১০ মার্চ) অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনে প্রাইভেট বা কোচিং করানো যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এর জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দায়ী থাকবেন।
তবে সরেজমিনে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ছুটির নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা হলেও এর পরেও দুটি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত কোচিং করানো হচ্ছে। সেখানে বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের অনেক শিক্ষার্থীও অংশ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহিরাগত এক শিক্ষক জানান, তিনি বাইরে থেকে এসে পড়াচ্ছেন। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুলাল রব্বানী উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, সামনে বার্ষিক পরীক্ষা, তাই শিশুরা যেন এদিক-সেদিক ঘুরে না বেড়ায় সে জন্য তাদের পড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার রহমানও জানেন। তবে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বাণিজ্যিক বা অননুমোদিত কার্যক্রম চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি অর্থে পরিচালিত বিদ্যালয় ও সেখানকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোচিং চালানোর অনুমতি কে দিয়েছেন? বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যক্তিগত বা কোচিংয়ের কাজে ব্যবহার করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার এবং গৃহীত ব্যবস্থা কমিশনকে জানানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকীয় : নাহার ম্যানশন (৩য় তলা), ১৫০ মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইল: boishakhinews24.net@gmail.com
হট লাইন: ০১৬৮৮৫০৫৩৫৬
https://www.boishakhinews24.net/