অবশেষে বাদশাহ’র প্রতি আনুগত্যের শপথ নিলেন যুবরাজ হামজা

জর্দানের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সৎভাই ও সাবেক যুবরাজ হামজা বিন হোসেইন গৃহবন্দি থাকার দাবি করার দু’দিন পর রাজা আব্দুল্লাহ, সংবিধান ও হাশেমি রাজপ্রাসাদের প্রতি পুনরায় আনুগত্যের শপথ করেছেন।

এর আগে তিনি একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে দাবি করেছিলেন, তাকে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু রাজপরিবারের এক প্রভাবশালী সদস্য রাজা আব্দুল্লাহ ও হামজার মধ্যে একটি সমঝোতা প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করার পর তিনি দেশের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেন।

জর্দানের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজা আব্দুল্লাহ রাজদরবারে সৃষ্ট নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসানের জন্য নিজের চাচা প্রিন্স হাসানের সাহায্য চান এবং তার মধ্যস্থতায় সৎভাই প্রিন্স হামজার সঙ্গে তার মতবিরোধের অবসান ঘটে।

সাবেক যুবরাজ হামজা বিন হোসেইন সোমবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন যাতে বলা হয়েছে, “আমি নিজেকে রাজা ও রাজপ্রাসাদের কাছে সোপর্দ করছি…এবং সেইসঙ্গে ঘোষণা করছি, আমি দেশের সংবিধান এবং জর্দানের সম্মানিত হাশেমি রাজপ্রাসাদের প্রতি অনুগত থাকব।”

বর্তমানে ৪১ বছর বয়সি প্রিন্স হামজাকে ২০০৪ সালে রাজা আব্দুল্লাহর সৎভাই হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রাজা আব্দুল্লাহ নিজের ছেলেকে যুবরাজ ঘোষণা করে প্রিন্স হামজাকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেন। রাজতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী রাজার মৃত্যুর পর যুবরাজই রাজার স্থলাভিষিক্ত হন।

জর্দানের রাজ পরিবারে উত্তেজনা ও টানাপড়েন নতুন ঘটনা নয়। তবে এত বড় আকারে সে উত্তেজনার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বিরল।

বৈশাখী নিউজজেপা