সিলেট নগরীকে হকারমুক্ত রাখতে ৭ পয়েন্টে যৌথ অভিযান

ফাহিম আহমদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: অভিযানের খবরে অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল রোববার সিলেট নগরীর ফুটপাত ও সড়কগুলো ছিলো অনেকটাই ফাঁকা।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং পুলিশের প্রস্তুতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই হকাররা সরে পড়েন।
ফলে দুপুরের মধ্যেই নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজার, লামাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও তালতলা এলাকায় দেখা গেছে হকারমুক্ত ফুটপাতের দৃশ্য।
তবে আম্বরখানা কাঁচাবাজারের সামনের ফুটপাতসহ কিছু কিছু এলাকায় ঘুটি কয়েক হকারকে মোরগ, সবজি, কলাসহ বিভিন্ন পন্য বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গতকাল রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের যৌথ অভিযানে নামে।
নগরীর ৭টি পয়েন্টে ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করেন। পয়েন্টগুলো হচ্ছে, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, শেখঘাট, রিকাবীবাজার, তালতলা, জিন্দাবাজার।
অভিযানে হকারদের উচ্ছেদের পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখল থেকে ফুটপাতও মুক্ত করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নগরীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এতে সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ অংশ নিয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবার সকাল থেকে নগরীর কোনো সড়ক বা ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না। এ নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযান শুরু হওয়ার আগেই হকাররা তাদের দোকান সরিয়ে নেওয়ায় নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিন পর এমন পরিচ্ছন্ন সড়ক দেখে খুশি নগরবাসী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযান একদিনের নয়, চলবে ধারাবাহিকভাবে যতদিন না পর্যন্ত নগরীর ফুটপাত ও সড়ক পুরোপুরি দখলমুক্ত রাখা যায়।
অপরদিকে, আপন ঠিকানায় হকারদের ফেরাতে লালদিঘীরপারস্থ হকার মার্কেটের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। চলছে শেষ মুহুর্তের কাজ।
এখানে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার হকারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য আলাদা এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।


