সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

আপডেট: December 18, 2025 |
inbound7768385666450713020
print news

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরে মুক্তি দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থার গবেষক রিহ্যাব মাহামুর এক বিবৃতিতে বলেছেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক সন্দেহে নিশানা করার যে উদ্বেগজনক প্রবণতা চলছে, আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার তারই ধারাবাহিকতা।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে মানুষের মত প্রকাশ বন্ধ করার চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এবং কর্তৃপক্ষের উচিত মানুষকে স্বাধীনভাবে কথা বলার এবং সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া; বিশেষ করে নির্বাচনের আগের এই সময়ে।”

গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রোববার রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ মধ্যরাতে আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলায় সোমবার আনিস আলমগীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লিখেছে, আনিস আলমগীর আদালতে বলেছেন, “আমি একজন সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। আমি দুই দশক ধরে এই কাজ করছি। আমার কাজ কারও কাছে মাথা নত করা নয়।”

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, “নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী যে দায়িত্ব রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে তা মেনে চলতে হবে এবং আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।”

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে গত মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সংশোধনের পর থেকে এই আইনকে কথিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাও রয়েছেন।

“মত প্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের আগে নিবর্তনমূলক আইনের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সবার মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ন হয়—এমন পরিবেশ অন্তর্বর্তী সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

Share Now