টবি ক্যাডম্যান আর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সঙ্গে নেই

আপডেট: January 21, 2026 |
inbound1812123911125454910
print news

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করছেন না ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান।

গত ১৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম জানাজানি হয় এবং পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্যাডম্যানের সঙ্গে সরকারের এক বছরের চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ২৬ নভেম্বর শেষ হয়েছে এবং তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে প্রায় দুই মাস আগে থেকেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টবি ক্যাডম্যানকে সেটি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই আর দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডেভিড বার্গম্যানের শেয়ার করা এক বিবৃতিতে ক্যাডম্যান বলেছেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত এবং এই মুহূর্তে পদত্যাগের কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা তিনি সমীচীন মনে করছেন না।

উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগের দিন তার এই না থাকার খবরটি প্রকাশ্যে এল।

লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম গার্নিকা ৩৭ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টবি ক্যাডম্যানের নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা ছিল। এক সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিদেশি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় ট্রাইব্যুনালের রায়ের কড়া সমালোচনা করেছিলেন।

এমনকি ২০১৪ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আবেদন করা তুর্কি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষেও তিনি কাজ করেছেন।

তবে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার ‘গণহত্যার’ মামলাগুলো আইসিসিতে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।

চানখাঁরপুলের ছয় হত্যা মামলার রায় দেওয়ার তারিখ মঙ্গলবার নির্ধারিত থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেছে। টবি ক্যাডম্যানের অনুপস্থিতিতে প্রসিকিউশন টিম এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার চুক্তি নবায়ন না হওয়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলার শুনানি ও বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দেশি-বিদেশি আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Share Now