লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ৬

আপডেট: January 26, 2026 |
inbound3883667355860405594
print news

লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার বিকেলে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে পোদ্দার বাজারের পাশে একটি বাড়িতে নারী কর্মীরা ভোটের প্রচারে যান। এ সময় বিএনপির লোকজন তাদের বাধা দিয়ে গালাগালি করেন।

খবর পেয়ে বশিকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাইন উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তার তর্ক হয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন জামায়াত নেতা মাইন উদ্দিন, কর্মী আবু তৈয়ব, যুব বিভাগের নেতা মো. তারেক, জুয়েল হোসেন, রিয়াদ হোসেন ও রুবেল হোসেন।

আহতদের দেখতে রাতেই সদর হাসপাতালে যান লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

পরে একই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়াও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, “বিএনপি নেতা ইকবালসহ নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিল। তখন মহিলা জামায়াতের লোকজন একটা ঘরে ছিল। সেখানেই হঠাৎ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরসহ কয়েকজন এসে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। তবে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ভোট নেই। তাই তারা পাগল হয়ে গেছে। আমরা আজকের হামলার নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “ভুল বুঝাবুঝির কারণে বশিকপুরে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। ছোটখাটো ঘটনা হলেও এটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

নেতাকর্মীদের ‘সতর্ক’ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি নির্বাচনের জন্য। এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা কাম্য নয়। যেভাবেই হোক দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার জন্য স্থানীয় নেতাদের বলেছি।”

ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারের সময় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।

সূত্র: বিডি নিউজ

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর