তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত বগুড়া

আপডেট: January 30, 2026 |
inbound356797087028631451
print news

দীর্ঘ প্রায় ২ যুগ পর রংপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান; আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তাকে বরণ করে নিতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে দলে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে শুক্রবার রংপুর সফরে এসে সন্ধ্যায় কালেক্টর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তৃতা করবেন তিনি। তার এই জনসভা ঘিরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ উত্তরবঙ্গের মানুষ।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনি জনসভার মঞ্চ ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। জনসভার মাঠ ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লাগানো হয়েছে মাইক।

সকালেই বিএনপির জেলা কমিটির সদস্যসহ সভা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি দেখতে মাঠ পরিদর্শন করেন।

এ সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দলের চেয়ারম্যানের আগমনে রংপুর বিভাগের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা ভোটার এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা-উৎসাহ আমরা দেখতে পাচ্ছি।

বিএনপির পক্ষে এই অঞ্চলে যে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তার আজ বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। আমরা আশা করি ঈদগাঁ এই মাঠটি আসায় কানায় কানায় পূর্ণ হবে। জনসভা স্থল ছেড়ে পুরো শহর জনসমুদ্রে রূপান্তর হবে।

তিনি বলেন, রংপুর সব সময়ে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আশা করছি এই জনসভার মাধ্যমে আগামী দিনে এই বিএনপির নেতৃত্বে বৈষম্য কেটে যাবে। একটি উন্নয়নের ধারায় রংপুর যুক্ত হবে আমাদের বিশ্বাস।

দুলু আরও বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বগুড়া থেকে রওনা দিয়ে প্রথমে জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার পরে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় পৌঁছাবেন। এরপর তিনি মাগরিবের নামাজের পরে তিনি বক্তব্য দেবেন।

এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভা শেষে রাতে রংপুর থেকে বগুড়ায় ফিরবেন তারেক রহমান। সেখানে রাতযাপন করে পরদিন শনিবার সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।

এদিকে মঞ্চ তৈরি কমিটির সদস্যরা বলেন, দম ফেলার সুযোগ নেই তাদের।

ঢাকা থেকে আসা রাজ সাউন্ড’র অপারেটর মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, মঞ্চ, মাঠ এবং মাঠের বাইরে দুইশো মাইক টাঙানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া, অতিরিক্ত আরও ২০টি মাইক প্রস্তুত থাকবে।

এদিকে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে যাবেন তারেক রহমান- এমন আশায় উজ্জীবিত হয়ে আছেন দলের নেতাকর্মীরা।

তারা বলছেন, রংপুরের জনসভায় তারেক রহমানে কাছে রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে বিএনপি রংপুর বিভাগের পক্ষ থেকে নানা দাবি তুলে ধরা হবে।

বিএনপির মঞ্চ দেখতে আসা রংপুর নগরীর রাধাবল্লবের হাসান আলী মুরশিদুল হক বলেন, আমরা কখনো সামনাসামনি তারেক জিয়াকে দেখিনি আশা করি আজকের এই জনসভায় আমরা তাকে সরাসরি দেখব এবং তার মুখ থেকে রংপুরের উন্নয়নের কথা শুনবো।

একই এলাকার বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন, এই রংপুরের অনেক নেতা ছিল, এখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের বাড়ি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুর বাড়ি। কিন্তু কেউ কাঙ্খিত রংপুরের উন্নয়নে অবদান রাখেনি।

আমরা আশা করি এবারেই তারেক জিয়া রংপুরের মানুষের জন্য অনেক কিছু করবেন। আশা করি পুরোনো এই রংপুরের নতুন রূপ দিতে যা যা করা দরকার তিনি তাই করবেন।

তাদের আশা, তারেক জিয়ার মাধ্যমে রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের কী কী উন্নয়ন করা দরকার তিনি নিজেই এই মঞ্চ থেকে সকলকে জানাবেন।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পীরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকেলে পীরগঞ্জে আসবেন। সেখানে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে তিনি রংপুরের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। এ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজিব চৌধুরী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুরে আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ দলে দলে এ জনসভায় অংশগ্রহণ করতে আসছে।

সাবেক সংসদ সদস্য সাহিদার রহমান জোসনা বলেন, তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেই সংস্কার বাস্তবায়ন করবেন। তিনি নারীদের অধিকার রক্ষা ও এগিয়ে নিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু ও সদস্য সচিব অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভার মাধ্যমে রংপুর বিভাগে ভোটের সমীকরণ পাল্টে যাবে। তার আগমনের কারণে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

এদিকে মাঠের ও নির্বাচনি জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার জনসভাস্থল, বিভিন্ন সড়ক, নগরীর প্রবেশ মুখে পোষাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া, পুরো নগরীতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ক্রাইম মারুফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ। গোয়েন্দার লোকজন থেকে শুরু করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠে সবাই সতর্ক নজর রাখছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় নিরাপত্তা দিতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আশা করছি পুলিশী তৎপরতার কারণে জনসভাকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর