রমজান মাসের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী ‎

আপডেট: February 18, 2026 |
inbound8823816116533632919
print news

রমজানে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই জানিয়ে নতুন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথমদিনের অফিস করতে এসে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার্ড করতে চায়। এ লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই চিঠি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকার আজ থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত সংকীর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চান, তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াও সরকারের লক্ষ্য।

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে আছে। দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, ভুল করার সুযোগ নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করবে।

রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।

রমজান মাস এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে। এ কারণে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো একটি স্থিতিশীল পরিবেশ।

বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যাবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর